B.Ed. 2nd Semester Examination
Course : 1.2.9
Assessment for Learning
1st Half: Assessment of the Learning
Process
Suggested Questions
Group
A:
মূল্যায়নের দুটি উদ্দেশ্য
মূল্যায়নের প্রথম উদ্দেশ্য হল শিক্ষাগত লক্ষ্যগুলি কতদূর অর্জিত হয়েছে, তা নির্ণয় করা। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা, যাতে ভবিষ্যতের নির্দেশনা উন্নত করা যায় এবং তাদের উন্নতিতে সহায়তা করা যায়। এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই কার্যকর ফিডব্যাক প্রদান করে।
লাইফ-স্কিল ট্রেনিং কী?
লাইফ-স্কিল ট্রেনিং হল একটি শিক্ষামূলক প্রক্রিয়া যা ব্যক্তিদের মনোসামাজিক দক্ষতা দিয়ে সজ্জিত করে। এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা সমাধান, এবং কার্যকর যোগাযোগের মতো ক্ষমতা বিকাশের উপর জোর দেয়। এর লক্ষ্য হল ব্যক্তিগত ও পেশাগত চ্যালেঞ্জগুলি সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য ব্যক্তিদের প্রস্তুত করা।
একটি পরীক্ষার কম নির্ভরযোগ্যতার দুটি কারণ
পরীক্ষার কম নির্ভরযোগ্যতার একটি কারণ হল অস্পষ্ট বা খারাপভাবে শব্দযুক্ত প্রশ্ন যা পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে। দ্বিতীয় কারণটি হল অসামঞ্জস্যপূর্ণ স্কোরিং, বিশেষ করে প্রবন্ধ বা অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষায়, যেখানে বিভিন্ন পরীক্ষক একই উত্তরের জন্য আলাদা নম্বর দেন, ফলে ফলাফলে ব্যক্তিগত বিচার চলে আসে।
একটি পরীক্ষার নিরপেক্ষতা (Objectivity)
বলতে কী বোঝায়?
পরীক্ষার নিরপেক্ষতা বলতে বোঝায়, পরীক্ষার স্কোরিং বা ফলাফল পরীক্ষকের ব্যক্তিগত বিচার থেকে কতটা স্বাধীন। একটি পরীক্ষা তখনই নিরপেক্ষ হয় যখন একাধিক পরীক্ষক স্বাধীনভাবে একটি নির্দিষ্ট উত্তর বা প্রতিক্রিয়ার জন্য একই স্কোর প্রদান করেন, যা ফলাফলের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করে।
গঠনগত বৈধতা (Construct
Validity) কী?
গঠনগত বৈধতা হল সেই মাত্রা, যার দ্বারা একটি পরীক্ষা বুদ্ধিমত্তা, উদ্বেগ, বা সৃজনশীলতার মতো একটি অন্তর্নিহিত তাত্ত্বিক গঠন বা বৈশিষ্ট্যকে সঠিকভাবে পরিমাপ করে। এটি সেই তত্ত্ব দ্বারা পূর্বাভাসিত অন্যান্য পরিমাপের সাথে পরীক্ষার সম্পর্ক প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠিত হয়।
কৃতিত্ব অভীক্ষা (Achievement
Test) কী?
একটি কৃতিত্ব অভীক্ষা হল একটি প্রমিত মূল্যায়ন যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নির্দেশনা বা শেখার পরে একজন ব্যক্তির অর্জিত জ্ঞান, বোধগম্যতা বা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা পরিমাপ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি শেখার ফলাফল যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়।
ডিসলেক্সিয়া (Dyslexia) কী?
ডিসলেক্সিয়া হল স্নায়বিক উত্সের একটি নির্দিষ্ট শিক্ষণ অক্ষমতা। স্বাভাবিক নির্দেশনা এবং বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও এটি সঠিক ও সাবলীল শব্দ শনাক্তকরণ, বানান এবং ডিকোডিং করার ক্ষেত্রে অসুবিধার দ্বারা চিহ্নিত। এটি পঠন দক্ষতার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।
শিক্ষাগত পরিমাপের সংজ্ঞা দাও
শিক্ষাগত পরিমাপ হল নির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতির ভিত্তিতে একজন ব্যক্তির জ্ঞান, দক্ষতা, মনোভাব বা বুদ্ধিমত্তা-এর মতো বৈশিষ্ট্যগুলিকে উপস্থাপন করার জন্য পদ্ধতিগতভাবে সাংখ্যিক মান বা শ্রেণি বরাদ্দ করার প্রক্রিয়া। এটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মানদণ্ড-নির্ভর (Criterion-referenced)
এবং আদর্শ-নির্ভর (Norm-referenced)
পরীক্ষার দুটি পার্থক্য
মানদণ্ড-নির্ভর পরীক্ষা (CRT) স্কোরগুলিকে একটি পূর্ব-নির্ধারিত মান বা মানদণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা করে, যেখানে আদর্শ-নির্ভর পরীক্ষা (NRT) একটি আদর্শ গোষ্ঠীর পারফরম্যান্সের সাথে তুলনা করে। CRT নির্ধারণ করে একজন পরীক্ষার্থী কী করতে পারে, আর NRT ব্যক্তিদের ক্রম নির্ধারণ করে।
শিক্ষায় গঠনমূলক মূল্যায়ন পদ্ধতি (Formative
Evaluation Approach) কী?
গঠনমূলক মূল্যায়ন হল নির্দেশনার প্রক্রিয়া চলাকালীন পরিচালিত একটি চলমান মূল্যায়ন পদ্ধতি। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শেখার ব্যবধান চিহ্নিত করা এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই ক্রমাগত ফিডব্যাক প্রদান করে নির্দেশনা ও শেখার ফলাফলগুলিকে উন্নত করা।
নম্বর পদ্ধতির তুলনায় গ্রেডিংয়ের দুটি সুবিধা
নম্বর পদ্ধতির তুলনায় গ্রেডিংয়ের একটি সুবিধা হল এটি মিনিটের নম্বর পার্থক্যের সাথে জড়িত অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ হ্রাস করে। দ্বিতীয়ত, এটি ব্যক্তিগত বিচার এবং স্কোরার পক্ষপাতিত্ব কমিয়ে একজন শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্সের একটি বিস্তৃত, সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রদান করে।
স্ব-রিপোর্টিং কৌশল (Self-reporting
Technique) কী?
স্ব-রিপোর্টিং কৌশল হল একটি ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি, যেখানে ব্যক্তিরা সাধারণত প্রশ্নাবলী, ইনভেন্টরি বা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব অনুভূতি, মনোভাব, বিশ্বাস বা অভিজ্ঞতা সরাসরি বর্ণনা করেন। এটি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পেতে সাহায্য করে।
একটি পরীক্ষার বৈধতা (Validity) বলতে কী বোঝায়?
বৈধতা বলতে বোঝায়, একটি পরীক্ষা যা পরিমাপ করার দাবি করে, তা কতটা সঠিকভাবে পরিমাপ করে। এটি একটি ভালো পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, যা নিশ্চিত করে যে স্কোর থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি অর্থপূর্ণ ও উপযুক্ত।
শিখন সমস্যাযুক্ত শিশুর দুটি বৈশিষ্ট্য
শিখন সমস্যাযুক্ত একটি শিশু তাদের শিক্ষাগত অর্জন এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি প্রদর্শন করতে পারে। পর্যাপ্ত বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও, তারা প্রায়শই স্মৃতি, মনোযোগ বা তথ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো নির্দিষ্ট জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াগুলির সাথে সংগ্রাম করে।
সমষ্টিগত (Summative) এবং গঠনমূলক (Formative) পরীক্ষার দুটি পার্থক্য
সমষ্টিগত পরীক্ষা কোর্সের শেষে শেখার মূল্যায়ন করতে এবং শংসাপত্রের জন্য পরিচালিত হয়, যখন গঠনমূলক পরীক্ষা নির্দেশনার সময় ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। সমষ্টিগত হল শেখার মূল্যায়ন
(assessment of learning); গঠনমূলক হল শেখার জন্য মূল্যায়ন
(assessment for learning)।
পূর্বাভাস অভীক্ষা (Prognosis
Test) কী?
পূর্বাভাস অভীক্ষা হল একটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক মূল্যায়ন যা একজন ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বা দক্ষতায় ভবিষ্যতের পারফরম্যান্স বা সাফল্যের সম্ভাবনা অনুমান করতে ব্যবহৃত হয়। এটি শিক্ষাগত এবং কর্মজীবনের পছন্দগুলিতে নির্দেশনা দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
প্রবন্ধ-ভিত্তিক পরীক্ষার দুটি অসুবিধা
প্রবন্ধ পরীক্ষার একটি অসুবিধা হল ব্যক্তিগত এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ স্কোরিংয়ের কারণে এর কম নির্ভরযোগ্যতা। দ্বিতীয়ত, এটি দুর্বল বিষয়বস্তু স্যাম্পলিং থেকে ভোগে, কারণ এটি কেবলমাত্র সীমিত সংখ্যক বিষয় কভার করতে পারে, যা পুরো পাঠ্যক্রমের প্রতিনিধিত্ব নাও করতে পারে।
প্রদত্ত তথ্যের মধ্যমা (Median) নির্ণয় করো
(নোট: যেহেতু কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করা হয়নি, তাই একটি সাধারণ উত্তর দেওয়া হলো।) মধ্যমা হল একটি ডেটা সেটকে ঊর্ধ্বক্রম বা অধঃক্রম অনুসারে সাজানোর পরে তার মধ্যবর্তী মান। জোড় সংখ্যক পর্যবেক্ষণের জন্য, এটি হল কেন্দ্রীয় দুটি মানের গড়।
IQ গণনার জন্য বেসাল এজ (Basal Age) কী?
স্ট্যানফোর্ড-বিনেট বুদ্ধিমত্তা স্কেলে, বেসাল এজ হল সর্বোচ্চ সেই বয়স স্তর যেখানে একজন পরীক্ষার্থী সমস্ত আইটেমের সঠিক উত্তর দেয়। এটি ব্যক্তির মানসিক বয়স এবং পরবর্তী IQ স্কোর গণনার ভিত্তি হিসাবে কাজ করে।
মনোভাবের মাত্রা (Dimension
of Attitude) বলতে কী বোঝায়?
মনোভাবের মাত্রা বলতে সেই মৌলিক উপাদানগুলিকে বোঝায় যা একজন ব্যক্তির মনোভাব গঠন করে। ক্লাসিক ত্রি-উপাদান মডেলের মধ্যে রয়েছে আবেগজনিত (Affective), জ্ঞানীয় (Cognitive), এবং আচরণগত (Behavioral) এই তিনটি মাত্রা।
স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন (Standard
Deviation) কী?
স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন হল একটি পরিসংখ্যানগত পরিমাপ যা একটি ডেটা সেটের মানগুলির পরিবর্তন বা বিচ্ছুরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে। একটি কম স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন ডেটা পয়েন্টগুলি গড়ের কাছাকাছি নির্দেশ করে, যেখানে একটি উচ্চ মান নির্দেশ করে যে তারা ছড়িয়ে রয়েছে।
রেটিং স্কেল (Rating
Scale) কী?
একটি রেটিং স্কেল হল একটি পরিমাপের সরঞ্জাম যা একজন পর্যবেক্ষককে একজন ব্যক্তির আচরণ, পারফরম্যান্স, বা মনোভাবকে একটি নিরবচ্ছিন্ন ধারাক্রমে শ্রেণীবদ্ধ বা পরিমাণগতভাবে নির্ধারণ করতে দেয়। এটি পদ্ধতিগত রেকর্ডিংয়ের জন্য সাধারণত শ্রেণিগুলির (যেমন ১ থেকে ৫) একটি সেট ব্যবহার করে।
Group B
কৃতিত্ব অভীক্ষা (Achievement Test) নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ?
একটি কৃতিত্ব অভীক্ষা (Achievement Test) নির্মাণের জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করা হয়:
- পরিকল্পনা (Planning): এটি প্রথম ধাপ। এখানে পরীক্ষার উদ্দেশ্য, পরীক্ষার বিষয়বস্তুর পরিধি, পরীক্ষিতব্য শিক্ষণ লক্ষ্যসমূহ (জ্ঞান, বোধ, প্রয়োগ ইত্যাদি), প্রশ্নের ধরন (MCQ, সংক্ষিপ্ত, প্রবন্ধ), এবং মোট সময় ও নম্বর নির্ধারণ করা হয়।
- নীলনকশা প্রস্তুতকরণ (Preparation of Blueprint): এটি একটি দ্বি-মাত্রিক বা ত্রি-মাত্রিক সারণী যা নির্দেশ করে যে বিষয়বস্তু, শিক্ষণ লক্ষ্য এবং প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী কতগুলি প্রশ্ন থাকবে। এটি বিষয়বস্তুর সঠিক প্রতিনিধিত্ব
(Content Coverage) নিশ্চিত করে।
- প্রশ্ন তৈরি (Item
Writing): এই ধাপে নীল নকশা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাঠিন্য মাত্রা বজায় রেখে প্রশ্নমালা বা আইটেম তৈরি করা হয়। প্রশ্নগুলি যেন স্পষ্ট, দ্ব্যর্থতা মুক্ত এবং উদ্দেশ্য অনুযায়ী হয়।
- পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ট্রাই-আউট (Preparing
the Test and Try-out): তৈরি করা প্রশ্নগুলিকে নির্দেশনাবলী সহ একটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয় এবং একটি ছোট নমুনা গোষ্ঠীর উপর প্রাথমিক প্রয়োগ
(Pilot Study) করা হয়।
- আইটেম বিশ্লেষণ (Item Analysis): ট্রাই-আউটের ফলাফল ব্যবহার করে প্রতিটি প্রশ্নের কাঠিন্য সূচক (Difficulty Index) এবং পার্থক্যকরণ ক্ষমতা (Discrimination Power) বিশ্লেষণ করা হয়। দুর্বল প্রশ্নগুলি সংশোধন বা বাতিল করা হয়।
- চূড়ান্ত রূপ দান (Final Form): বিশ্লেষণ ও সংশোধনের পর, অভীক্ষাটির চূড়ান্ত রূপ তৈরি করা হয় এবং এর নির্দেশাবলী, সময় ও নম্বর নির্দিষ্ট করা হয়।
২. একটি ভালো পরীক্ষার মানদণ্ড (Criteria of
a Good Test)
একটি ভালো পরীক্ষার প্রধান মানদণ্ডগুলি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
ক. বৈধতা (Validity)
বৈধতা হলো সেই মাত্রা, যার দ্বারা একটি পরীক্ষা যা পরিমাপ করার দাবি করে, তা কতটা সঠিকভাবে পরিমাপ করে। এটি একটি পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। যদি একটি অঙ্কন পরীক্ষা গাণিতিক ক্ষমতা পরিমাপ করে, তবে সেই পরীক্ষার বৈধতা নেই। এর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে, যেমন—বিষয়বস্তুগত বৈধতা (Content
Validity), গঠনগত বৈধতা (Construct
Validity) ইত্যাদি।
খ. নির্ভরযোগ্যতা (Reliability)
নির্ভরযোগ্যতা বলতে বোঝায়, কোনো পরীক্ষা বার বার প্রয়োগ করলে বা একই ব্যক্তির উপর একাধিকবার প্রয়োগ করলে ফলাফলের মধ্যে কতটা সংগতি (Consistency) বজায় থাকে। যদি একজন শিক্ষার্থী আজ কোনো পরীক্ষায় ৭০ পায়, তবে অন্য একটি সমতুল্য পরীক্ষায় তার কাছাকাছি স্কোর পাওয়াই নির্ভরযোগ্যতা।
গ. নিরপেক্ষতা (Objectivity)
নিরপেক্ষতা হলো সেই বৈশিষ্ট্য যার কারণে পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষকের ব্যক্তিগত বিচার বা পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত থাকে। একটি নিরপেক্ষ পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষক একই উত্তরপত্রের জন্য একই নম্বর প্রদান করেন।
ঘ. উপযোগিতা (Usability/Practicability)
একটি ভালো পরীক্ষা হতে হবে ব্যবহারিক। এর মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি অন্তর্ভুক্ত: পরীক্ষাটি পরিচালনা করতে কম সময়, শ্রম এবং অর্থ খরচ হওয়া উচিত, এটি সহজে স্কোরিং করা যায় এবং এর ব্যাখ্যা করা সহজ।
বুদ্ধিমত্তা অভীক্ষা (Intelligence Test) ও শিক্ষাক্ষেত্রে এর গুরুত্ব ?
বুদ্ধিমত্তা অভীক্ষা কী?
একটি বুদ্ধিমত্তা অভীক্ষা (Intelligence
Test) হলো একটি বিশেষায়িত সাইকোমেট্রিক পরীক্ষা যা একজন ব্যক্তির সাধারণ মানসিক ক্ষমতা বা বুদ্ধিমত্তা (Intelligence
Quotient - IQ) পরিমাপ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই পরীক্ষাগুলি মূলত একজন ব্যক্তির যুক্তি, সমস্যা সমাধান, নতুন পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়া এবং বিমূর্ত চিন্তা করার ক্ষমতা মূল্যায়ন করে। উদাহরণস্বরূপ, স্ট্যানফোর্ড-বিনেট এবং ওয়েচলার (WAIS/WISC) স্কেল।
শিক্ষাক্ষেত্রে এর গুরুত্ব:
শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের গুরুত্ব অপরিসীম:
- শ্রেণীকরণ ও নিয়োগ (Classification and Placement): শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ করে তাদের মেধা অনুযায়ী শ্রেণীকরণ করা যায় এবং সঠিক শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বা বিশেষ শিক্ষামূলক সেটিংসে (যেমন, দ্রুতগামী বা ধীরগামী গোষ্ঠী) তাদের নিয়োগ করা যায়।
- শিক্ষাগত পূর্বাভাস (Educational Prediction): উচ্চ বুদ্ধিমত্তা স্কোর ভবিষ্যতে ভালো একাডেমিক সাফল্য নির্দেশ করতে পারে। এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত পথ এবং উচ্চশিক্ষা/ক্যারিয়ার নির্বাচনে সহায়তা করে।
- শিখন সমস্যা চিহ্নিতকরণ (Identifying Learning
Problems): বুদ্ধিমত্তা অভীক্ষা শিক্ষণ অক্ষমতা (Learning Disability) বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার মতো সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে, যাতে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ শুরু করা যায়।
- শিক্ষণের উন্নতি (Improving
Instruction): শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানীয় দুর্বলতা ও শক্তি বুঝতে সাহায্য করে। এর ফলে শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীর বুদ্ধির স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষণ পদ্ধতিকে ব্যক্তিগতভাবে (Individualized) অভিযোজিত করতে পারেন।
মৌখিক পরীক্ষার (Oral Tests) সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধাসমূহ (Advantages):
- তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক (Immediate Feedback): পরীক্ষক সরাসরি প্রশ্ন করতে এবং শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে দেখতে পারেন, ফলে তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক দেওয়া সম্ভব হয়।
- গভীরতা পরিমাপ (Measuring
Depth): এই পরীক্ষাগুলি শিক্ষার্থীদের বিষয়বস্তুর গভীরতা, স্পষ্টতা এবং চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়া ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে পারে।
- অভিব্যক্তি ও যোগাযোগ দক্ষতা (Expression
and Communication Skills): এটি শিক্ষার্থীদের কথা বলার ধরন, আত্মবিশ্বাস এবং যোগাযোগের দক্ষতা পরিমাপের সুযোগ দেয়, যা লিখিত পরীক্ষায় সম্ভব নয়।
- নিরক্ষরদের জন্য উপযোগী (Suitable for Illiterates): যে সকল শিক্ষার্থী লিখতে বা পড়তে পারে না, তাদের মূল্যায়নের জন্য মৌখিক পরীক্ষা খুবই উপযোগী।
অসুবিধাসমূহ (Disadvantages):
- কম নির্ভরযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা (Low Reliability and
Objectivity): পরীক্ষকের ব্যক্তিগত অনুভূতি, মেজাজ বা পক্ষপাতিত্বের কারণে স্কোরিংয়ে অসংগতি দেখা যেতে পারে।
- বিষয়বস্তুর কম প্রতিনিধিত্ব (Poor Content Sampling): সীমিত সময়ের কারণে শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীকে খুব কম সংখ্যক প্রশ্ন করতে পারেন, যা পুরো সিলেবাসকে প্রতিনিধিত্ব করে না।
- সময়সাপেক্ষ (Time Consuming): মৌখিক পরীক্ষা একজন একজন করে শিক্ষার্থীকে নিতে হয়, যা লিখিত পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ।
- পরীক্ষার উদ্বেগ (Test
Anxiety): কিছু শিক্ষার্থী সরাসরি পরীক্ষকের সামনে কথা বলার সময় উদ্বেগ বা ভয় অনুভব করতে পারে, যা তাদের প্রকৃত পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করে।
ব্যক্তিত্বের অভিক্ষেপণ পরীক্ষা (Projective
Test of Personality) ও এর প্রকারভেদ
অভিক্ষেপণ পরীক্ষা কী?
অভিক্ষেপণ পরীক্ষা হলো এমন একটি ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন কৌশল যা ব্যক্তিকে কিছু অস্পষ্ট, গঠনহীন বা উদ্দীপক (Ambiguous
Stimuli) (যেমন—কালির দাগ, অসম্পূর্ণ বাক্য) এর প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাতে উৎসাহিত করে। এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি অসচেতনভাবে তার অভ্যন্তরীণ অনুভূতি, ভয়, ইচ্ছা এবং মানসিক দ্বন্দ্ব বাইরে "অভিক্ষেপ" (project) করে। মনোবিজ্ঞানীরা তখন এই প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে ব্যক্তির সুপ্ত বা অপ্রকাশিত ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করেন।
দুটি অভিক্ষেপণ পরীক্ষার প্রকার:
১. রোরশা কালির দাগ পরীক্ষা (Rorschach
Inkblot Test): * এটি হারম্যান রোরশা কর্তৃক তৈরি। * পরীক্ষার্থীকে ১০টি মানসম্মত কালির দাগের ছবি দেখানো হয় এবং তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় যে তারা ছবিগুলিতে কী দেখতে পাচ্ছে বা ছবিগুলি তাদের মনে কী ধারণা সৃষ্টি করছে। * প্রতিক্রিয়াগুলি (কী দেখা হলো, ছবির কোন অংশ দেখা হলো) বিশ্লেষণ করে ব্যক্তির আবেগ, চিন্তাধারা এবং ব্যক্তিত্বের গঠন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।
২. থিম্যাটিক অ্যাপ্রিসেপশন টেস্ট (Thematic
Apperception Test - TAT): * এটি হেনরি মারে এবং ক্রিশ্চিয়ান মর্গান কর্তৃক তৈরি। * পরীক্ষার্থীকে অস্পষ্ট সামাজিক বা দ্ব্যর্থবোধক চিত্র দেখানো হয় এবং তাদের একটি গল্প তৈরি করতে বলা হয়—গল্পে কী ঘটছে, চরিত্রগুলি কী ভাবছে বা অনুভব করছে এবং গল্পের শেষ কী হবে। * গল্পের মূল বিষয়বস্তু (themes), নায়ক (hero), প্রয়োজন (needs) এবং চাপ (pressures) বিশ্লেষণ করে ব্যক্তির মানসিক প্রক্রিয়া এবং আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক বোঝা যায়।
নির্ভরযোগ্যতা বলতে কী বোঝায়? নির্ভরযোগ্যতা (Reliability) নির্ধারণ ও প্রভাবিতকারী উপাদান ?
নির্ভরযোগ্যতা হলো একটি পরীক্ষার সেই বৈশিষ্ট্য, যার দ্বারা একই পরিস্থিতিতে বা সমতুল্য পরিবেশে একটি পরীক্ষা বার বার প্রয়োগ করলে ফলাফলের মধ্যে কতটা সুসংগতি (Consistency) বজায় থাকে তা পরিমাপ করা হয়। উচ্চ নির্ভরযোগ্যতার অর্থ হলো পরীক্ষার স্কোরগুলি ত্রুটিমুক্ত (Error-free) বা পরিমাপের ত্রুটি কম।
নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণের দুটি পদ্ধতি:
১. টেস্ট-রিটেস্ট পদ্ধতি (Test-Retest
Method): * এই পদ্ধতিতে একটি অভীক্ষা একই গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের উপর নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে (যেমন—২ থেকে ৪ সপ্তাহ) দুইবার প্রয়োগ করা হয়। * প্রথম এবং দ্বিতীয়বার প্রাপ্ত স্কোরগুলির মধ্যে সহসম্পর্ক (Correlation
Coefficient) নির্ণয় করা হয়। এই সহসম্পর্ককে স্থিতিশীলতা সহগ (Coefficient
of Stability) বলা হয়। উচ্চ সহসম্পর্ক উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা নির্দেশ করে।
২. সমতুল্য বা বিকল্প রূপ পদ্ধতি (Equivalent
or Alternate Forms Method): * এই পদ্ধতিতে অভীক্ষার দুটি সমতুল্য রূপ (যা বিষয়বস্তু, প্রশ্নের ধরন, কাঠিন্য ইত্যাদি দিক থেকে একই) তৈরি করা হয়। * এই দুটি রূপ একই দিনে বা স্বল্প ব্যবধানে একই গোষ্ঠীর উপর প্রয়োগ করা হয়। * উভয় রূপের স্কোরের মধ্যে সহসম্পর্ক নির্ণয় করা হয়, যাকে সমতা সহগ (Coefficient
of Equivalence) বলা হয়। এই পদ্ধতিটি অনুশীলনজনিত প্রভাব (practice
effect) কমাতে সাহায্য করে।
নির্ভরযোগ্যতাকে প্রভাবিতকারী অভ্যন্তরীণ (Intrinsic) ও বাহ্যিক (Extrinsic) উপাদান:
অভ্যন্তরীণ উপাদান (Intrinsic
Factors):
এগুলি সরাসরি পরীক্ষার কাঠামো বা গঠন সম্পর্কিত:
- পরীক্ষার দৈর্ঘ্য (Test
Length): সাধারণত, দীর্ঘ পরীক্ষা স্বল্প পরীক্ষার চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য হয়, কারণ এতে বিষয়বস্তুর আরও ভালো প্রতিনিধিত্ব থাকে।
- প্রশ্নের বিষয়বস্তু ও দ্ব্যর্থতা (Content and Ambiguity): খারাপভাবে তৈরি বা দ্ব্যর্থক প্রশ্ন নির্ভরযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।
বাহ্যিক উপাদান (Extrinsic
Factors):
এগুলি পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ বা পরীক্ষার্থীর অবস্থা সম্পর্কিত:
- পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ (Testing Conditions): পরীক্ষা গ্রহণের সময় আলো, তাপমাত্রা, গোলমাল ইত্যাদি পরিবেশগত কারণ নির্ভরযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
- পরীক্ষার্থীর অবস্থা (Examinee's
State): পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীর শারীরিক বা মানসিক অবস্থা (যেমন—অসুস্থতা, ক্লান্তি, উদ্বেগ) নির্ভরযোগ্যতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- পরীক্ষকের পক্ষপাতিত্ব (Scorer Bias): স্কোরিংয়ে নিরপেক্ষতার অভাব থাকলে নির্ভরযোগ্যতা কমে যায়।
আপনার শিক্ষাগত মূল্যায়ন সম্পর্কিত প্রশ্নগুলির উত্তর নিচে বাংলাতে এবং প্রতিটি উত্তর প্রায় ২০০ শব্দের মধ্যে আলোচনা করা হলো।
মনোভাব অভীক্ষা (Attitude Test) কী? একটি আগ্রহের তালিকা (Interest Inventory)-এর বিস্তারিত বিবরণ
মনোভাব অভীক্ষা (Attitude
Test): মনোভাব অভীক্ষা হলো এমন একটি সাইকোমেট্রিক টুল যা কোনো নির্দিষ্ট বস্তু, ব্যক্তি, ধারণা বা পরিস্থিতির প্রতি একজন ব্যক্তির অনুভূতি, বিশ্বাস এবং আচরণগত প্রবণতার দিকটি পরিমাপ করে। মনোভাবের তিনটি উপাদান—জ্ঞানীয় (Cognitive),
আবেগীয় (Affective) এবং আচরণীয় (Behavioral)—এই অভীক্ষাগুলির মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। সাধারণত থার্স্টোন স্কেল (Thurstone
Scale), লিকার্ট স্কেল (Likert
Scale) বা সিমান্টিক ডিফারেন্সিয়াল স্কেলের মতো কৌশল ব্যবহার করে এই মনোভাবগুলি পরিমাণগতভাবে নির্ধারণ করা হয়। শিক্ষা বা সমাজবিজ্ঞানে মনোভাব অভীক্ষা প্রায়শই কোনো কর্মসূচির কার্যকারিতা বা কোনো সামাজিক ইস্যুর প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়।
স্ট্রং ভোকেশনাল ইন্টারেস্ট ব্ল্যাঙ্ক (Strong
Vocational Interest Blank - SVIB):
আগ্রহের তালিকা (Interest
Inventory) হলো এমন একটি যন্ত্র যা কোনো নির্দিষ্ট পেশা বা কার্যকলাপের প্রতি একজন ব্যক্তির পছন্দ বা অপছন্দ পরিমাপ করে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো SVIB, যা বর্তমানে স্ট্রং ইন্টারেস্ট ইনভেনটরি (Strong
Interest Inventory - SII) নামে পরিচিত। এটি বিভিন্ন পেশার ক্ষেত্রে সফল ও সন্তুষ্ট ব্যক্তিদের আগ্রহের প্যাটার্নের সাথে পরীক্ষার্থীর আগ্রহের প্যাটার্ন তুলনা করে।
SVIB/SII-এর বিবরণ: এটি একটি বিস্তৃত প্রশ্নাবলী, যেখানে পরীক্ষার্থীকে শত শত আইটেম (পেশা, কাজ, স্কুল বিষয়, বিনোদনমূলক কাজ ইত্যাদি) সম্পর্কে পছন্দ (Like), অপছন্দ (Dislike) বা উদাসীন (Indifferent) মত প্রকাশ করতে বলা হয়। এর প্রধান রিপোর্টগুলি সাধারণত ছয়টি সাধারণ বৃত্তিমূলক থিম (General
Occupational Themes - Holland Codes) এবং বিভিন্ন মৌলিক আগ্রহের স্কেল (Basic
Interest Scales) ব্যবহার করে ফলাফল প্রদর্শন করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে তারা কোন ধরনের কাজের পরিবেশ বা পেশায় সফল হওয়ার এবং সন্তুষ্ট থাকার সম্ভাবনা রাখে।
মূল্যায়নের প্রকৃতি (Nature) ও উদ্দেশ্য (Purpose) আলোচনা করো
মূল্যায়নের প্রকৃতি (Nature of
Evaluation): মূল্যায়ন একটি ব্যাপক, নিরবচ্ছিন্ন এবং উদ্দেশ্যমূলক প্রক্রিয়া। এর প্রকৃতি কেবল পরীক্ষা বা স্কোরিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি গুণগত এবং পরিমাণগত বিচার প্রক্রিয়া। মূল্যায়ন শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যগুলির সাথে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ তা যাচাই করে। এটি একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া যা শিক্ষণ প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে। এটি শুধু শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্সই নয়, বরং শিক্ষাক্রম, শিক্ষণ পদ্ধতি এবং শিক্ষা পরিবেশের কার্যকারিতাও যাচাই করে।
মূল্যায়নের উদ্দেশ্য (Purpose of
Evaluation): মূল্যায়নের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হলো:
- লক্ষ্য অর্জন যাচাই (Assessing Goal Achievement): শিক্ষাগত লক্ষ্যগুলি কতটুকু অর্জিত হয়েছে, তা পরিমাপ করা।
- ফিডব্যাক প্রদান (Providing
Feedback): শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই গঠনমূলক ফিডব্যাক প্রদান করা, যাতে শেখার দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করে তা সংশোধন করা যায়।
- শ্রেণীকরণ ও নিয়োগ (Classification and Placement): শিক্ষার্থীদের শক্তি ও দুর্বলতা অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে শ্রেণীকরণ ও নিয়োগ করা।
- ভবিষ্যতের নির্দেশনা (Guiding Future Instruction): মূল্যায়নের ফলাফল ব্যবহার করে শিক্ষক তার শিক্ষণ পদ্ধতি ও কৌশল উন্নত করতে পারেন।
- সার্টিফিকেশন (Certification): শিক্ষণ প্রক্রিয়ার শেষে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি প্রদান করা (যেমন, পরীক্ষার ফলাফল)।
- অনুসন্ধান ও কর্মসূচি উন্নতি (Research
and Program Improvement): শিক্ষামূলক কর্মসূচি বা শিক্ষাক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে তার উন্নতি সাধন করা।
সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থী (Problem Learner) বলতে কী বোঝায়? শ্রেণীকক্ষে তাদের মধ্যে সাধারণত দেখা যাওয়া সমস্যাসমূহ
সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থী (Problem
Learner):সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থী বলতে সেই সকল শিক্ষার্থীকে বোঝায় যাদের আচরণ, মানসিকতা, সামাজিক সম্পর্ক বা শিক্ষাগত পারফরম্যান্স অন্যান্য গড় শিক্ষার্থীদের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হয় এবং যা তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। এদের সমস্যাগুলি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তা স্কুল, পরিবার বা পারিপার্শ্বিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। এদের ক্ষেত্রে শিক্ষকের বিশেষ মনোযোগ ও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়।
শ্রেণীকক্ষে সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাধারণত দেখা যাওয়া সমস্যাসমূহ:
সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিম্নলিখিত ধরনের সমস্যাগুলি প্রায়শই দেখা যায়:
- আচরণগত সমস্যা (Behavioral
Problems):
- আক্রমণাত্মকতা (Aggressiveness): সহপাঠীদের সাথে ঝগড়া করা, জিনিসপত্র নষ্ট করা বা শিক্ষককে অসম্মান করা।
- অবাধ্যতা (Defiance): শিক্ষকের নির্দেশনা বারবার অমান্য করা বা ক্লাসের নিয়ম ভঙ্গ করা।
- উচ্ছৃঙ্খলতা (Disruptiveness): অতিরিক্ত কথা বলা, মনোযোগ আকর্ষণকারী আচরণ করা বা শ্রেণীকক্ষের শৃঙ্খলা নষ্ট করা।
- সামাজিক ও আবেগজনিত সমস্যা (Social
and Emotional Problems):
- প্রত্যাহার/একাকীত্ব (Withdrawal/Isolation): লাজুক বা ভীতিকর হওয়া, সহপাঠীদের সাথে মিশতে না পারা এবং একাকী থাকা।
- উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা (Anxiety and Depression): পরীক্ষা বা স্কুল সম্পর্কে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা মন খারাপ থাকা।
- আত্মমর্যাদার অভাব (Lack of Self-Esteem): নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে নিম্ন ধারণা থাকা।
- শিক্ষাগত সমস্যা (Academic
Problems):
- নির্দিষ্ট শিখন সমস্যা (Specific
Learning Disabilities): যেমন ডিসলেক্সিয়া (Dyslexia) বা ডিসক্যালকুলিয়া (Dyscalculia)।
- কম মনোযোগ (Poor Attention Span): কোনো একটি কাজে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা।
- অনুপ্রেরণার অভাব (Lack of Motivation): পড়াশোনা বা স্কুল কার্যক্রমে আগ্রহ না দেখানো।
শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব পরিমাপের গুরুত্ব
শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব (Personality) পরিমাপ করার গুরুত্ব বহুমাত্রিক এবং এটি সামগ্রিক শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে উন্নত করে:
- ব্যক্তিগত নির্দেশনা (Individualized Instruction): ব্যক্তিত্ব পরিমাপ করে শিক্ষকরা জানতে পারেন কোন শিক্ষার্থী অন্তর্মুখী (Introvert) এবং কোন শিক্ষার্থী বহির্মুখী (Extrovert)। এই তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষক শিক্ষণ পদ্ধতি (যেমন—দলগত কাজ বনাম ব্যক্তিগত গবেষণা) সাজাতে পারেন যা প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই।
- শিখন শৈলী বোঝা (Understanding Learning
Styles): ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলি প্রায়শই শিখন শৈলীকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন উচ্চমাত্রার কর্তব্যপরায়ণ (Conscientiousness) শিক্ষার্থী নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শিখতে পছন্দ করতে পারে। এই জ্ঞান শিক্ষকদের শিক্ষণ সামগ্রীগুলিকে আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।
- সামাজিক-আবেগিক বিকাশ (Socio-Emotional Development): ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা, আবেগিক স্থিতিশীলতা এবং অভিযোজন ক্ষমতা বুঝতে সাহায্য করে। কোনো শিক্ষার্থীর কম্পনশীলতা (Neuroticism) বেশি হলে তাকে মানসিক সহায়তা বা কাউন্সেলিং প্রয়োজন হতে পারে।
- পেশাগত ও কর্মজীবনের নির্দেশনা (Vocational Guidance): ব্যক্তিত্ব এবং আগ্রহের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ব্যক্তিত্ব পরিমাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাভাবিক প্রবণতা অনুযায়ী এমন পেশা বা ক্ষেত্র নির্বাচন করতে পারে যেখানে তারা সফল এবং সন্তুষ্ট থাকবে।
- শ্রেণীকক্ষ পরিবেশের উন্নতি (Improving
Classroom Environment): শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্বের প্যাটার্ন বোঝা শিক্ষককে শ্রেণীকক্ষের গতিশীলতা এবং আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক ভালোভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে, যা একটি অনুকূল শিক্ষণ পরিবেশ তৈরি করে।
পরিমাপ (Measurement),
অ্যাসেসমেন্ট (Assessment)
এবং মূল্যায়নের (Evaluation)
মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক
পরিমাপ, অ্যাসেসমেন্ট এবং মূল্যায়ন শিক্ষাগত প্রক্রিয়ার তিনটি পরস্পর সম্পর্কিত কিন্তু স্বতন্ত্র ধারণা। এদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কটি নিম্নরূপ:
- পরিমাপ (Measurement):
- এটি সবচেয়ে প্রাথমিক এবং পরিমাণগত প্রক্রিয়া।
- এটি কোনো বৈশিষ্ট্য বা গুণকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে সাংখ্যিক মান (যেমন—নম্বর, স্কোর, র্যাঙ্কিং) প্রদান করে।
- উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী গণিত পরীক্ষায় ৮০ পেল। এই '৮০' হলো পরিমাপ।
- অ্যাসেসমেন্ট (Assessment):
- এটি পরিমাপের চেয়ে ব্যাপক।
- এটি শিক্ষার্থী কী শিখেছে এবং কীভাবে শিখেছে তার তথ্য সংগ্রহ, পর্যালোচনা এবং ব্যাখ্যা করার প্রক্রিয়া। এর মধ্যে পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, পোর্টফোলিও এবং পরিমাপের ফলাফল সবই অন্তর্ভুক্ত।
- উদাহরণ: শুধু '৮০' নম্বর দেওয়াই নয়, বরং শিক্ষক পর্যবেক্ষণ করলেন কেন সে বীজগণিতে বেশি ভুল করেছে। এটি হলো অ্যাসেসমেন্ট।
- মূল্যায়ন (Evaluation):
- এটি সবচেয়ে ব্যাপক এবং চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া।
- এটি অ্যাসেসমেন্ট এবং পরিমাপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলির ভিত্তিতে একটি গুণগত মান বা মূল্য বিচার করে। এখানে একটি মানদণ্ড (Criteria)
বা আদর্শের (Norms) সাপেক্ষে বিচার করা হয়।
- উদাহরণ: শিক্ষার্থী '৮০' পাওয়ার পর শিক্ষক বিচার করলেন যে তার পারফরম্যান্স 'খুব ভালো' (A
Grade) এবং সে পরবর্তী ক্লাসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এটি হলো মূল্যায়ন।
আন্তঃসম্পর্ক: পরিমাপ (Measurement) হলো অ্যাসেসমেন্টের একটি ভিত্তি বা টুল; অ্যাসেসমেন্ট হলো মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া; আর মূল্যায়ন হলো সেই তথ্যগুলিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া।
বিষয়বস্তুগত বৈধতা (Content Validity) কী? কীভাবে এই বৈধতা নির্ধারণ করা যায়?
বিষয়বস্তুগত বৈধতা (Content
Validity):বিষয়বস্তুগত বৈধতা হলো সেই মাত্রা, যার দ্বারা একটি পরীক্ষা পরিমাপ করার জন্য উদ্দিষ্ট বিষয়বস্তু বা শিক্ষণ লক্ষ্যগুলিকে কতটা সঠিকভাবে এবং সম্পূর্ণভাবে প্রতিনিধিত্ব করে। অন্য কথায়, এটি নিশ্চিত করে যে পরীক্ষার প্রশ্নগুলি সেই জ্ঞান, দক্ষতা বা আচরণের ক্ষেত্রগুলিকে কভার করেছে যা কভার করার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি একটি পর্যবেক্ষণগত (Judgemental) এবং যৌক্তিক (Logical) বৈধতা। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রশ্নগুলি কেবলমাত্র প্রথম দুটি অধ্যায় থেকে আসে, তবে তার বিষয়বস্তুগত বৈধতা কম।
বিষয়বস্তুগত বৈধতা নির্ধারণের পদ্ধতি:
বিষয়বস্তুগত বৈধতা নির্ধারণের জন্য সাধারণত কোনো গাণিতিক পরিসংখ্যানের প্রয়োজন হয় না, বরং এটি প্রধানত বিশেষজ্ঞদের রায়ের উপর নির্ভর করে:
- পরীক্ষা ও শিক্ষাক্রমের মিল (Matching
Test to Curriculum):
- প্রথমে শিক্ষাক্রমের উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু এবং লক্ষ্যগুলি বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।
- তারপর পরীক্ষার প্রতিটি প্রশ্ন বা আইটেমকে সেই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা বিষয়বস্তুর সাথে মিলিয়ে দেখা হয়।
- নীলনকশার ব্যবহার (Use of
Blueprint):
- একটি দ্বি-মাত্রিক বা ত্রি-মাত্রিক নীলনকশা তৈরি করা হয় যা বিষয়বস্তুর ক্ষেত্র, শিক্ষণ লক্ষ্য এবং প্রশ্নের ধরনের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করে। এই নীলনকশা অনুযায়ী প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হয়।
- বিশেষজ্ঞের বিচার (Expert
Judgement/Panel Review):
- বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলকে পরীক্ষার প্রশ্নগুলি পর্যালোচনা করতে বলা হয়।
- বিশেষজ্ঞগণ প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিকতা (Relevance), প্রতিনিধিত্ব (Representativeness) এবং স্পষ্টতা (Clarity) সম্পর্কে তাদের মতামত দেন। তারা বিচার করেন যে পরীক্ষাটি সামগ্রিক বিষয়বস্তুকে কভার করেছে কিনা এবং এটি উদ্দেশ্যগুলি পরিমাপ করতে সক্ষম কিনা।
- প্রায়শই একটি বিষয়বস্তু বৈধতা অনুপাত (Content Validity Ratio - CVR) ব্যবহার করা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞেরা প্রতিটি আইটেমকে 'প্রয়োজনীয়', 'উপযোগী কিন্তু প্রয়োজনীয় নয়', বা 'প্রয়োজনীয় নয়' হিসেবে রেট করেন।
স্ব-রিপোর্টিং কৌশল (Self-reporting
Technique) কীভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে?
স্ব-রিপোর্টিং কৌশল হলো এমন একটি ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, মনোভাব, অনুভূতি, বিশ্বাস, আগ্রহ এবং আচরণ সম্পর্কে সরাসরি তথ্য প্রদান করে। এর মধ্যে প্রশ্নাবলী (Questionnaires),
ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার (Interviews),
রেটিং স্কেল (Rating
Scales), মনোভাবের তালিকা (Attitude
Inventories) ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম:
- অভ্যন্তরীণ অবস্থা পরিমাপ (Measuring Internal States): এই কৌশলগুলি শিক্ষার্থীদের অদৃশ্য অভ্যন্তরীণ অবস্থা (যেমন—পরীক্ষার উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাস, প্রেরণা, অধ্যয়নের অভ্যাস) পরিমাপ করতে সাহায্য করে, যা সাধারণ পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে না।
- অনুপ্রেরণা ও মনোভাব মূল্যায়ন (Assessing Motivation and
Attitude): একজন শিক্ষার্থীর শেখার প্রতি মনোভাব এবং স্ব-অনুপ্রেরণার মাত্রা মূল্যায়নে এই কৌশলগুলি অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, একটি লিকার্ট স্কেল ব্যবহার করে শিক্ষক জানতে পারেন যে কতজন শিক্ষার্থী গণিতকে 'খুব আকর্ষণীয়' মনে করে।
- সৃজনশীলতা ও আগ্রহ চিহ্নিতকরণ (Identifying Creativity and
Interests): আগ্রহের তালিকা বা ইনভেন্টরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত আগ্রহের ক্ষেত্র এবং সুপ্ত প্রতিভা চিহ্নিত করা যায়, যা তাদের পেশাগত নির্দেশনায় সহায়ক।
- সামাজিক-আবেগিক স্বাস্থ্য (Socio-Emotional Health): কিছু স্ব-রিপোর্টিং সরঞ্জাম (যেমন—অ্যাডজাস্টমেন্ট ইনভেন্টরি) ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা (যেমন—বিষণ্ণতা, সামাজিক উদ্বেগ) চিহ্নিত করা যায়, যার ফলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়।
- পরিবেশগত প্রভাবের মূল্যায়ন (Evaluating Environmental
Impact): শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবার বা শ্রেণীকক্ষের পরিবেশকে কীভাবে দেখে, তা রিপোর্ট করার মাধ্যমে শিক্ষক সেই পরিবেশের শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারেন।
সাক্ষাৎকারের (Interviews)
শ্রেণীবিন্যাস আলোচনা করো
সাক্ষাৎকার হলো একটি মৌখিক তথ্য সংগ্রহের কৌশল, যেখানে একজন পরীক্ষক এবং পরীক্ষার্থীর মধ্যে একটি উদ্দেশ্যমূলক কথোপকথন হয়। শিক্ষাগত গবেষণা ও মূল্যায়নে সাক্ষাৎকারকে বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়:
ক. কাঠামোর ভিত্তিতে (Based on
Structure):
- কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকার (Structured Interview):
- এই সাক্ষাৎকারে প্রশ্নগুলির ক্রম ও বিন্যাস পূর্বনির্ধারিত থাকে এবং সকল পরীক্ষার্থীকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়।
- এটি উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করে এবং পরিমাণগত বিশ্লেষণের জন্য উপযুক্ত।
- অকাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকার (Unstructured Interview):
- এখানে কোনো পূর্বনির্ধারিত প্রশ্ন বা ক্রম থাকে না। এটি একটি অনানুষ্ঠানিক কথোপকথন যা পরীক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
- এটি গভীর তথ্য সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত এবং পরীক্ষার্থীর মনের গভীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
- আধা-কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকার (Semi-structured Interview):
- এটি পূর্বের দুটির সংমিশ্রণ। এখানে কিছু মূল প্রশ্ন নির্ধারিত থাকে, কিন্তু পরীক্ষককে প্রয়োজনে অতিরিক্ত প্রশ্ন করার এবং আলোচনার গতিপথ পরিবর্তন করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়।
খ. উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে (Based on
Purpose):
- নিদানমূলক সাক্ষাৎকার (Diagnostic Interview):
- কোনো সমস্যা বা দুর্বলতার মূল কারণ চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় (যেমন—শিখন অক্ষমতা বা আচরণগত সমস্যার কারণ অনুসন্ধান)।
- গবেষণামূলক সাক্ষাৎকার (Research Interview):
- কোনো নির্দিষ্ট গবেষণা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
- পরামর্শমূলক সাক্ষাৎকার (Counselling Interview):
- কোনো শিক্ষার্থীর মানসিক, শিক্ষাগত বা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
গ. পদ্ধতির ভিত্তিতে (Based on
Method):
- ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার (Individual Interview): একজন পরীক্ষক এবং একজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাক্ষাৎকার।
- দলগত সাক্ষাৎকার (Group Interview): একজন পরীক্ষক একই সময়ে একাধিক পরীক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নেন।
অ্যাসেসমেন্টের (Assessment)
প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য আলোচনা করো ?
অ্যাসেসমেন্টের প্রকৃতি (Nature of
Assessment): অ্যাসেসমেন্ট হলো একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা এবং মনোভাব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, পর্যালোচনা ও ব্যাখ্যা করা হয়। অ্যাসেসমেন্টের প্রকৃতি পরিমাপের চেয়ে গুণগতভাবে ব্যাপক এবং মূল্যায়নের চেয়ে কম বিচারমূলক। এটি শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রায়শই শিক্ষণ চলাকালীন এটি ধারাবাহিক (Continuous) এবং গতিশীল (Dynamic) উপায়ে ঘটে। এটি শুধু স্কোর নয়, বরং শেখানো এবং শেখার পদ্ধতিকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
অ্যাসেসমেন্টের উদ্দেশ্য (Purpose of
Assessment): অ্যাসেসমেন্টের প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার উন্নতি সাধন করা:
- শিক্ষার জন্য অ্যাসেসমেন্ট (Assessment for Learning -
AfL): এটি প্রধানত গঠনমূলক (Formative) উদ্দেশ্যে করা হয়। এর লক্ষ্য হলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই সময়োপযোগী ফিডব্যাক প্রদান করা, যাতে শেখার দুর্বলতাগুলি অবিলম্বে চিহ্নিত করে তা সংশোধন করা যায়।
- শিক্ষার মূল্যায়ন (Assessment of Learning - AoL): এটি প্রধানত সমষ্টিগত (Summative) উদ্দেশ্যে করা হয়। এর লক্ষ্য হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের শেষে শিক্ষাগত অর্জন পরিমাপ করা এবং তা গ্রেড বা স্কোরের মাধ্যমে রিপোর্ট করা।
- শিক্ষার মাধ্যমে অ্যাসেসমেন্ট (Assessment as Learning - AaL): এটি শিক্ষার্থীকে স্ব-মূল্যায়ন (Self-assessment) এবং সমকক্ষ মূল্যায়ন (Peer-assessment)-এ উৎসাহিত করে। এর লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদেরকে তাদের নিজস্ব শেখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং তাদের মেটাকগনিটিভ দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- নিদান (Diagnosis): শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সমস্যা বা বাধা (যেমন—ভুল ধারণা, দক্ষতার অভাব) চিহ্নিত করা, যাতে উপযুক্ত শিক্ষামূলক হস্তক্ষেপ পরিকল্পনা করা যায়।
সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো
১. একটি পরীক্ষার বৈধতা (Validity of
a Test):
বৈধতা বলতে বোঝায়, একটি পরীক্ষা যা পরিমাপ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, তা কতটা সঠিকভাবে ও সম্পূর্ণভাবে পরিমাপ করছে। এটি একটি ভালো পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। যদি একটি পরীক্ষা তার উদ্দেশ্য পূরণ না করে, তবে তার স্কোর থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি অর্থহীন হবে। বৈধতাকে সাধারণত বিষয়বস্তুগত বৈধতা (Content
Validity), মানদণ্ড-সম্পর্কিত বৈধতা (Criterion-related
Validity) এবং গঠনগত বৈধতা (Construct
Validity) এই তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়।
২. হিস্টোগ্রাম (Histogram):
হিস্টোগ্রাম হলো একটি গ্রাফিকাল উপস্থাপনা যা শ্রেণী ব্যবধানের (Class
Intervals) ভিত্তিতে একটি ডেটা সেটের ফ্রিকোয়েন্সি ডিস্ট্রিবিউশন দেখায়। এটি দেখতে বার গ্রাফের মতো হলেও, হিস্টোগ্রামে প্রতিটি বারের প্রস্থ শ্রেণী ব্যবধান নির্দেশ করে এবং বারগুলি পরস্পর সংযুক্ত থাকে, যার ফলে এটি একটি অবিচ্ছিন্ন উপাত্তের
(Continuous Data) ডিস্ট্রিবিউশন দেখায়। উল্লম্ব অক্ষ ফ্রিকোয়েন্সি এবং অনুভূমিক অক্ষ শ্রেণী ব্যবধান নির্দেশ করে।
৩. সৃজনশীলতা (Creativity):
সৃজনশীলতা হলো কোনো কিছু নতুন, মৌলিক এবং উপযোগী উপায়ে তৈরি বা চিন্তা করার মানসিক ক্ষমতা। এটি শুধু শিল্পকলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমস্যা সমাধান, ধারণা তৈরি এবং নতুন সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষমতাকেও বোঝায়। সৃজনশীলতার প্রধান উপাদানগুলি হলো—সাবলীলতা (Fluency), নমনীয়তা (Flexibility), মৌলিকতা (Originality) এবং বিশদতা (Elaboration)। এটি শিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য, যা শিক্ষার্থীদের চিন্তার প্রসার ঘটায়।
৪. সিআরটি (CRT) এবং এনআরটি (NRT)
(Criterion-Referenced Test and Norm-Referenced Test):
- সিআরটি (Criterion-Referenced Test): এই পরীক্ষায় স্কোরগুলি একটি পূর্ব-নির্ধারিত মানদণ্ড (Standard)
বা দক্ষতার স্তরের বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা করা হয়। এটি নির্ধারণ করে যে একজন শিক্ষার্থী একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন করেছে কি না। এর উদ্দেশ্য হলো শেখার দক্ষতা যাচাই করা (যেমন—একটি ড্রাইভ টেস্ট)।
- এনআরটি (Norm-Referenced Test): এই পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীর স্কোর একটি আদর্শ গোষ্ঠীর (Norm
Group) পারফরম্যান্সের সাথে তুলনা করে ব্যাখ্যা করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলনা করা এবং র্যাঙ্কিং করা (যেমন—IQ টেস্ট, SAT)।
Group C
১. কৃতিত্ব অভীক্ষা (Achievement
Test) ও এর নির্মাণ ধাপ 📝
কৃতিত্ব অভীক্ষা কী?
একটি কৃতিত্ব অভীক্ষা হলো একটি মানসম্মত মূল্যায়ন যা একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে নির্দেশনা বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পরে একজন ব্যক্তির অর্জিত জ্ঞান, বোধগম্যতা এবং দক্ষতা পরিমাপ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি মূল্যায়ণ করে যে শিক্ষার্থী শিক্ষাক্রমের লক্ষ্যগুলি কতটা সফলভাবে অর্জন করেছে। এটি শিক্ষার্থীদের শিখন বা অর্জনের স্তর নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
কৃতিত্ব অভীক্ষা নির্মাণের ধাপসমূহ:
একটি নির্ভরযোগ্য ও বৈধ কৃতিত্ব অভীক্ষা নির্মাণের জন্য নিম্নলিখিত ছয়টি ধাপ অনুসরণ করা হয়:
১. পরিকল্পনা (Planning):
* এই ধাপে অভীক্ষার উদ্দেশ্য, পরিধি (বিষয়বস্তু ও লক্ষ্য) এবং সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। কোন ধরনের প্রশ্ন ব্যবহার করা হবে (যেমন—MCQ, সংক্ষিপ্ত উত্তর, প্রবন্ধ), তাও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২. নীলনকশা প্রস্তুতকরণ (Preparation
of Blueprint):
* এটি একটি ত্রি-মাত্রিক সারণী যা নিশ্চিত করে যে অভীক্ষাটি উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু এবং প্রশ্নের ধরন—এই তিনটি মাত্রা অনুযায়ী সুষম প্রতিনিধিত্ব করছে।
৩. প্রশ্ন তৈরি বা আইটেম লেখা (Item
Writing):
* নীল নকশা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাঠিন্য মাত্রা বজায় রেখে স্পষ্ট, দ্ব্যর্থতা মুক্ত এবং উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রশ্নমালা তৈরি করা হয়। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে একটিই সঠিক উত্তর থাকে (MCQ-এর ক্ষেত্রে)।
৪. পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ট্রাই-আউট (Preparing
the Test and Try-out):
* তৈরি করা প্রশ্নগুলিকে নির্দেশনাবলী সহকারে সাজিয়ে অভীক্ষার একটি প্রাথমিক রূপ তৈরি করা হয়। এরপর এটি একটি ছোট নমুনা গোষ্ঠীর উপর প্রয়োগ করা হয়, যাকে পাইলট স্টাডি বলা হয়।
৫. আইটেম বিশ্লেষণ (Item
Analysis):
* ট্রাই-আউটের ফলাফল ব্যবহার করে প্রতিটি প্রশ্নের কাঠিন্য সূচক (Difficulty
Index) এবং পার্থক্যকরণ ক্ষমতা (Discrimination
Power) যাচাই করা হয়। দুর্বল প্রশ্নগুলি সংশোধন বা বাতিল করা হয়।
৬. চূড়ান্ত রূপ দান (Final
Form):
* বিশ্লেষণ ও সংশোধনের পর, অভীক্ষাটির চূড়ান্ত রূপ তৈরি করা হয় এবং এর স্কোরিং পদ্ধতি, সময় ও নির্দেশাবলী নির্দিষ্ট করা হয়। প্রয়োজনে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা ও বৈধতা যাচাই করা হয়।
সৃজনশীল শিশুর (Creative
Child) চিহ্নিতকরণ ও লালন (Nurturance)
💡
সৃজনশীল শিশুর চিহ্নিতকরণ:
সৃজনশীলতা হলো কোনো কিছু নতুন, মৌলিক এবং উপযোগী উপায়ে তৈরি বা চিন্তা করার ক্ষমতা। সৃজনশীল শিশুদের চিহ্নিতকরণের জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে:
- সৃজনশীলতার অভীক্ষা (Creativity
Tests):
- টোরেন্স টেস্ট অফ ক্রিয়েটিভ থিঙ্কিং (Torrance Test of Creative
Thinking - TTCT): এটি সৃজনশীল চিন্তার চারটি উপাদান (সাবলীলতা, নমনীয়তা, মৌলিকতা এবং বিশদতা) পরিমাপ করে।1
- শিক্ষক ও পিতামাতার পর্যবেক্ষণ (Observation by Teachers and
Parents):
- প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার ক্ষমতা: শিশুটি কি প্রায়শই "কেন" বা "কীভাবে" জাতীয় প্রশ্ন করে?
- সমস্যা সমাধানের কৌশল: প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে নতুন উপায়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা।
- কল্পনাশক্তি ও কৌতূহল: উচ্চ মাত্রার কল্পনাশক্তি, তীব্র কৌতূহল এবং খেলার প্রতি ঝোঁক।
- কৃতিত্বের বিশ্লেষণ (Analysis of Achievement):
- বিভিন্ন কাজে (যেমন—অঙ্কন, লেখা, মডেল তৈরি) অসাধারণ মৌলিক কাজ বা পারফরম্যান্সের নমুনা সংগ্রহ করা।
সৃজনশীলতার লালন (Nurturance):
সৃজনশীল শিশুদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা উচিত:
- স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের সুযোগ (Encouraging
Independent Thought):
- শিক্ষার্থীদের ভয়মুক্ত পরিবেশে ভিন্ন মত প্রকাশে উৎসাহিত করা এবং তাদের মৌলিক ধারণাকে স্বাগত জানানো।
- কৌতূহল জাগানো পরিবেশ সৃষ্টি (Fostering
Curiosity):
- শ্রেণীকক্ষে এমন প্রশ্ন বা সমস্যা উপস্থাপন করা যা শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং তাদের অনুসন্ধানে উৎসাহিত করে।
- সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি (Developing Problem-Solving
Skills):
- মুক্ত-সমাপ্ত প্রশ্ন (Open-ended
Questions) এবং ব্রেনস্টর্মিং (Brainstorming) কৌশল ব্যবহার করা। একটি সমস্যার একাধিক সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ দেওয়া।
- ভুল করার স্বাধীনতা (Freedom to Make Mistakes):
- ব্যর্থতাকে শেখার অংশ হিসেবে দেখা এবং ঝুঁকি নিতে উৎসাহিত করা। সমালোচনার পরিবর্তে গঠনমূলক ফিডব্যাক প্রদান করা।
- সম্পদ এবং অনুপ্রেরণার উৎস প্রদান (Providing Resources and
Inspiration):
- বিভিন্ন ধরনের বই, উপকরণ, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে আলোচনা করা।
হিস্টোগ্রাম ও ফ্রিকোয়েন্সি পলিগন অঙ্কন এবং তাদের সুবিধা
(নোট: যেহেতু কোনো নির্দিষ্ট ডেটা দেওয়া হয়নি, তাই একটি কাল্পনিক দলবদ্ধ ডেটা (Grouped
Data)-এর উপর ভিত্তি করে আলোচনা করা হলো।)
কাল্পনিক ডেটা:
|
শ্রেণী ব্যবধান (Class Interval) |
ফ্রিকোয়েন্সি (Frequency) (f) |
|
১০-২০ |
৫ |
|
২০-৩০ |
১০ |
|
৩০-৪০ |
২০ |
|
৪০-৫০ |
১৫ |
|
৫০-৬০ |
৫ |
হিস্টোগ্রাম ও ফ্রিকোয়েন্সি পলিগন অঙ্কন:
উভয় গ্রাফই একই অক্ষের উপর আঁকা হয়:
- অনুভূমিক অক্ষ (X-axis): শ্রেণী ব্যবধানের ঊর্ধ্ব সীমা (Histogram-এর জন্য) এবং মধ্যবিন্দু (Midpoint)
(Frequency Polygon-এর জন্য) নির্দেশ করে।
- উল্লম্ব অক্ষ (Y-axis): ফ্রিকোয়েন্সি নির্দেশ করে।
১. হিস্টোগ্রাম: প্রতিটি শ্রেণী ব্যবধানের জন্য ফ্রিকোয়েন্সির সমান উচ্চতার পরস্পর সংযুক্ত আয়তক্ষেত্র (Bars) আঁকা হয়। (যেমন: ৩০-৪০ এর জন্য ২০ একক উচ্চতার বার)।
২. ফ্রিকোয়েন্সি পলিগন: প্রতিটি শ্রেণী ব্যবধানের মধ্যবিন্দু (যেমন: ১৫, ২৫, ৩৫, ৪৫, ৫৫) চিহ্নিত করা হয় এবং ফ্রিকোয়েন্সির সাথে মিলিয়ে বিন্দুগুলি স্থাপন করা হয়। এই বিন্দুগুলিকে একটি সরলরেখা দিয়ে যুক্ত করা হয়। পলিগনটিকে ভূমির সাথে যুক্ত করার জন্য, ডেটা পরিসরের বাইরে উভয় প্রান্তে শূন্য ফ্রিকোয়েন্সির দুটি কাল্পনিক মধ্যবিন্দু (যেমন: ৫ এবং ৬৫) যোগ করা হয়।
হিস্টোগ্রাম ও ফ্রিকোয়েন্সি পলিগনের সুবিধা:
|
বৈশিষ্ট্য |
হিস্টোগ্রাম (Histogram) |
ফ্রিকোয়েন্সি পলিগন (Frequency
Polygon) |
|
গঠন |
আয়তক্ষেত্র বা বার ব্যবহার করে, যা ডেটার ঘনত্ব দেখায়। |
বিন্দু এবং রেখা ব্যবহার করে, যা মসৃণ বক্ররেখা তৈরি করে। |
|
ডেটার ধরন |
অবিচ্ছিন্ন উপাত্তের
(Continuous Data) ফ্রিকোয়েন্সি বিতরণ দেখায়। |
এটিও অবিচ্ছিন্ন উপাত্তের জন্য ব্যবহৃত হয়। |
|
সুবিধা |
১. ফ্রিকোয়েন্সি ডিস্ট্রিবিউশনের প্রকৃতি (Nature of Distribution) সহজে বোঝা যায়। ২. মোড (Mode)-এর আনুমানিক মান নির্ণয় করা সহজ। |
১. একাধিক বন্টন (Multiple Distributions) একই সাথে তুলনা করার জন্য এটি আদর্শ। ২. এটি একটি মসৃণ বক্ররেখার আকার নেয়, যা ভবিষ্যতে ফ্রিকোয়েন্সি অনুমান
(Estimation) করতে সাহায্য করে। |
|
অসুবিধা |
একাধিক বন্টন তুলনা করা কঠিন। |
ডেটার প্রকৃত ঘনত্ব (Density) চিত্রিত করতে পারে না। |
সংক্ষিপ্ত টীকা
১. সৃজনশীলতা (Creativity)
সৃজনশীলতা হলো এমন মানসিক ক্ষমতা যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা দল মৌলিক (Original), নতুন এবং উপযোগী (Valuable) ধারণা, সমাধান বা কাজ সৃষ্টি করতে পারে। এটি কেবল শিল্পকলা বা সাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যেকোনো ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে ভিন্ন পথ অবলম্বন বা চিরাচরিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন চিন্তা করার ক্ষমতাকেও বোঝায়। সৃজনশীলতার মূল উপাদানগুলি হলো—সাবলীলতা (Fluency), নমনীয়তা (Flexibility), মৌলিকতা (Originality) এবং বিশদতা (Elaboration)। সৃজনশীলতা পরিমাপের জন্য টোরেন্স টেস্ট অফ ক্রিয়েটিভ থিঙ্কিং (TTCT)-এর মতো অভীক্ষা ব্যবহৃত হয়।
২. সিআরটি (CRT) এবং এনআরটি (NRT)
|
তুলনার ক্ষেত্র |
সিআরটি (Criterion
Referenced Test) |
এনআরটি (Norm
Referenced Test) |
|
ব্যাখ্যার ভিত্তি |
পূর্বনির্ধারিত মানদণ্ড বা কাট-স্কোরের (Cut-score) সাপেক্ষে ব্যাখ্যা করা হয়। |
অন্যান্য শিক্ষার্থীর (নর্ম গ্রুপ) পারফরম্যান্সের সাথে তুলনা করে ব্যাখ্যা করা হয়। |
|
উদ্দেশ্য |
শিক্ষার্থী একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা বা শিক্ষণ লক্ষ্য অর্জন করেছে কিনা, তা যাচাই করা। মাস্টারি পরিমাপ করা। |
শিক্ষার্থীর তুলনামূলক অবস্থান বা র্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা। |
|
ফলাফল |
শতাংশ (Percentage) বা দক্ষতার স্তর (যেমন: দক্ষ, পারদর্শী) হিসাবে দেওয়া হয়। |
পার্সেন্টাইল র্যাঙ্ক বা স্ট্যান্ডার্ড স্কোর হিসাবে দেওয়া হয়। |
|
উদাহরণ |
ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা, নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমের ইউনিট পরীক্ষা। |
IQ টেস্ট, জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা। |
সংক্ষেপে: সিআরটি নির্ধারণ করে একজন শিক্ষার্থী কী করতে পারে (মানদণ্ডের সাপেক্ষে), আর এনআরটি নির্ধারণ করে একজন শিক্ষার্থী তুলনামূলকভাবে কেমন পারফর্ম করেছে (অন্যান্যদের সাপেক্ষে)।
সংক্ষিপ্ত টীকা
১. একটি পরীক্ষার বৈধতা (Validity of
a Test)
বৈধতা হলো একটি পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এটি সেই মাত্রা, যার দ্বারা একটি পরীক্ষা যা পরিমাপ করার দাবি করে, তা কতটা সঠিকভাবে এবং সম্পূর্ণভাবে পরিমাপ করে। যদি কোনো ইংরেজি পরীক্ষা শিক্ষার্থীর গণিত জ্ঞান পরিমাপ করে, তবে সেই পরীক্ষার বৈধতা নেই। বৈধতা নিশ্চিত করে যে পরীক্ষার স্কোর থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যাগুলি অর্থপূর্ণ এবং উপযুক্ত। বৈধতার প্রধান প্রকারভেদগুলি হলো—বিষয়বস্তুগত বৈধতা (Content
Validity), মানদণ্ড-সম্পর্কিত বৈধতা (Criterion
Validity) এবং গঠনগত বৈধতা (Construct
Validity)।1 উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা বৈধতার জন্য একটি পূর্বশর্ত হলেও, উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা মানেই উচ্চ বৈধতা নয়।
২. হিস্টোগ্রাম (Histogram)
হিস্টোগ্রাম হলো একটি গ্রাফিকাল উপস্থাপনা যা শ্রেণী ব্যবধানের (Class
Intervals) ভিত্তিতে একটি অবিচ্ছিন্ন উপাত্তের (Continuous
Data) ফ্রিকোয়েন্সি ডিস্ট্রিবিউশন দেখায়।2 এটি দেখতে বার গ্রাফের মতো হলেও, হিস্টোগ্রামের আয়তক্ষেত্রগুলি পরস্পর সংযুক্ত থাকে, যা শ্রেণী ব্যবধানের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
- অনুভূমিক অক্ষ (X-axis): শ্রেণী ব্যবধান বা সংখ্যা পরিসর নির্দেশ করে।3
- উল্লম্ব অক্ষ (Y-axis):
ফ্রিকোয়েন্সি বা প্রতিটি পরিসরে ডেটা পয়েন্টের সংখ্যা নির্দেশ করে।4
হিস্টোগ্রামের উচ্চতা ফ্রিকোয়েন্সির সমানুপাতিক। এটি ডেটার বন্টনের প্রকৃতি, মোড এবং ব্যতিক্রমী মান (Outliers) সহজে বুঝতে সাহায্য করে।5
মধ্যক (Mean) ও স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন (Standard
Deviation) নির্ণয় (সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি) 🧮
(নোট: যেহেতু কোনো নির্দিষ্ট ডেটা দেওয়া হয়নি, তাই একটি কাল্পনিক দলবদ্ধ ডেটা (Grouped
Data)-এর উপর ভিত্তি করে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে মধ্যক ও স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন নির্ণয় করা হলো।)
কাল্পনিক ডেটা সেট (Grouped
Data):
গণনার সারণী (Calculation
Table):
ক. মধ্যক (Mean) নির্ণয় (সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি):
খ. স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন ($\sigma$) নির্ণয় (সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি):
প্রদত্ত স্কোর বা দলবদ্ধ ডেটার মধ্যক (Mean) ও মধ্যমা (Median) নির্ণয়