D.El.Ed.-I/Child
Studies/CC-01/23
Two-Year D.El.Ed. Part-I
Examination : 2021-2023
Paper Code: CC-01
Full Marks: 70
Time Allowed: 3 Hours
MCQ
Answers
(a)
শিশু, প্রাপ্তবয়স্কের তুলনায় যে বিষয়ে এগিয়ে থাকে তা হল-
(ii) কল্পনা শক্তি
(b)
সর্বপ্রথম 'নির্মিতিবাদ' দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখ করেন—
(ii) ভাইগটস্কি
(c)
সূক্ষ্ম পেশির সঞ্চালন প্রয়োজন হয় না-
(iii) চলতে
(d)
কোন শিক্ষা কমিশন ত্রিভাষা সূত্রের সুপারিশ করেন?
(ii) মুদালিয়র কমিশন
(e)
নীচের কোনটি সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া নয়?
(iii) বিশ্লেষণ
(f)
বিকাশের কোন স্তরে 'সামাজিক দলের'(Gang) প্রভাব বেশি দেখা যায়?
(iii) বয়ঃসন্ধিকাল
(g)
সামাজিক নির্মিতিবাদের অন্যতম প্রবক্তা হলেন
(iv) ভাইগটস্কি
(h)
'কার্যকরী স্মৃতি'কে বলা হয়-
(ii) স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি
(i)
শিখন হল একটি
(ii) অর্জিত প্রক্রিয়া
(j)
'নিদ্রা' পশ্চাদমুখী অন্তরায়কে
(iii) হ্রাস করে
(k)
কবাডি কোন দেশের খেলা?
(ii) ভারত
(l)
নীচের কোনটি খেলার বৈশিষ্ট্য নয়?
(iv) বাধ্য হয়ে কাজ করা
(m)
'অন্তর্ভুক্তিকরণ' হল-
(i) গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া
(n)
নীচের কোনটি নির্মিতিবাদের নীতি নয়?
(iv) শিক্ষার্থীর কেবল অতীত অভিজ্ঞতার উপর গুরুত্ব দান
(o)
শিক্ষার্থীর জীবনে বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যকরী হবে, যদি
(iv) এর সবকটিই
(p)
শিখন সঞ্চালনে প্রক্ষোভের ভূমিকা-
(i) প্রাক্ষোভিক ভারসাম্যর গুরুত্ব আছে
(q)
সক্রিয় অনুবর্তনে প্রধান দুটি নীতির একটি হল শক্তিদায়ী উদ্দীপক এবং অন্যটি হল
(i) ফিডব্যাক
(r)
কোনটি থর্নডাইকের শিখনের নীতি নয়?
(ii) মানসিক প্রতিক্রিয়ার নীতি
(s)
কোনটি প্রাচীন অনুবর্তনের উদাহরণ নয়?
(iii) সমস্যা সমাধান
(t)
নীচের কোনটি সামাজিক প্রক্রিয়া?
(iv) এর সবকটিই
Group
B 2 marks
(a)
কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশের পর্যায়গুলি কী কী?
কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশের পর্যায়গুলি তিনটি প্রধান স্তরে বিভক্ত: (১) পূর্ব-সামাজিক স্তর, যেখানে নৈতিকতা ব্যক্তিগত স্বার্থের উপর ভিত্তি করে; (২) সামাজিক-সিদ্ধান্ত স্তর, যেখানে সামাজিক নিয়ম ও আইনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়; (৩) পরবর্তী-সামাজিক স্তর, যেখানে নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিকতা প্রাধান্য পায়।
(b)
ভাষা ও বচনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লিখুন।
ভাষা হলো একটি সিস্টেম্যাটিক যোগাযোগের মাধ্যম, যা নিয়ম ও গঠন অনুসরণ করে। বচন হলো ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগ, যা কথোপকথনে ঘটে। ভাষা সাধারণত লিখিত ও মৌখিক উভয় রূপে থাকে, কিন্তু বচন সাধারণত মৌখিক এবং প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভরশীল।
(c)
ধারণা গঠনের দুটি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করুন।
ধারণা গঠনের প্রয়োজনীয়তা হলো: (১) তথ্যের সংগঠন, যা নতুন ধারণা তৈরি করতে সহায়তা করে; (২) অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন ধারণা তৈরি, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানকে প্রসারিত করে এবং তাদের চিন্তাভাবনার দক্ষতা উন্নত করে।
(d)
'সুপার ইগো'-এর দুটি বৈশিষ্ট্য লিখুন।
'সুপার ইগো'-এর বৈশিষ্ট্য হলো: (১) এটি নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, যা ব্যক্তির আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে; (২) এটি সামাজিক আদর্শের প্রতিফলন, যা ব্যক্তির আত্মসমালোচনা ও নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
(e)
বুদ্ধির প্রাক্ সক্রিয়তা স্তরের দুটি উদাহরণ দিন।
বুদ্ধির প্রাক্ সক্রিয়তা স্তরের উদাহরণ: (১) সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যেখানে শিশুরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যুক্তি প্রয়োগ করে; (২) যুক্তি ও বিশ্লেষণ, যেখানে শিশুরা তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়।
(f)
শিখন অক্ষমতার যে কোনও দুটি কারণ লিখুন।
শিখন অক্ষমতার কারণ: (১) মানসিক চাপ, যা শিশুর মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে; (২) পরিবেশগত সমস্যা, যেমন অপ্রতুল শিক্ষা উপকরণ বা অশান্ত পরিবেশ, যা শেখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
(g)
'অনুবর্তিত উদ্দীপক' বলতে কী বোঝেন?
'অনুবর্তিত উদ্দীপক' হলো এমন উদ্দীপক যা পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এটি আচরণগত পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শেখার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং নতুন অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে।
(h)
থর্নডাইকের 'প্রস্তুতির সূত্র' বিবৃত করুন।
থর্নডাইকের 'প্রস্তুতির সূত্র' হলো: শিখন প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতির গুরুত্ব, যা শেখার কার্যক্রমকে সহজতর করে। এটি নির্দেশ করে যে, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও আগ্রহ থাকলে তারা আরও কার্যকরভাবে শিখতে পারে।
(i)
শিশুদের ভয় দূরীকরণের দুটি উপায় লিখুন।
শিশুদের ভয় দূরীকরণের উপায়: (১) ধীরে ধীরে পরিচিতি, যেখানে শিশুকে ভয়াবহ পরিস্থিতির সাথে ধীরে ধীরে পরিচিত করা হয়; (২) সমর্থন ও সাহস দেওয়া, যাতে শিশুরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে এবং নিরাপদ বোধ করে।
(j)
অনিয়মিত ভাষার বিকাশের দুটি লক্ষণ কী কী?
অনিয়মিত ভাষার বিকাশের লক্ষণ: (১) শব্দের ব্যবহার, যেখানে শিশুরা নতুন শব্দ তৈরি করে বা ভুলভাবে ব্যবহার করে; (২) বাক্য গঠনের অস্বাভাবিকতা, যেখানে শিশুরা সাধারণ বাক্য গঠনের নিয়ম অনুসরণ করে না।
(k)
গঠনমূলক খেলার দুটি বৈশিষ্ট্য বলুন।
গঠনমূলক খেলার বৈশিষ্ট্য: (১) সৃজনশীলতা, যেখানে শিশুরা নতুন ধারণা ও কল্পনা প্রকাশ করে; (২) সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যেখানে শিশুরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এবং সমাধান খুঁজে বের করে।
(l)
বহুভাষী শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকের দুটি গুরুত্ব লিখুন।
বহুভাষী শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের গুরুত্ব: (১) ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সম্মান করা, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তি ও সমতা তৈরি করে; (২) শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগের উন্নয়ন, যা তাদের সামাজিক দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।
Group C
(a)
'সক্রিয় অনুবর্তন' তত্ত্বটি কার?
এই তত্ত্বের মূল ধারণাটি সংক্ষেপে বিবৃত করুন।
'সক্রিয় অনুবর্তন' তত্ত্বটি বিহেভিওরিজমের একটি শাখা, যা মূলত বিহেভিওরিস্ট থিওরিস্ট স্কিনার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, আচরণকে পরিবর্তন করতে উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা। সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্বে, আচরণকে শক্তিশালী করতে ফিডব্যাক ও অনুশীলনের গুরুত্ব রয়েছে।
মূল ধারণা:
- উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়া: সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্বে বলা হয় যে, একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপক (stimulus) একটি নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া (response) সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশুকে একটি নতুন দক্ষতা শেখানোর সময়, তাকে সঠিক প্রতিক্রিয়া দিলে তার শেখার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
- ফিডব্যাকের গুরুত্ব: ফিডব্যাক হলো প্রতিক্রিয়া যা শিক্ষার্থীর আচরণকে সংশোধন করতে সহায়তা করে। এটি শেখার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের তাদের ভুলগুলো বুঝতে এবং সঠিক আচরণ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- অনুশীলন: সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্বে বলা হয় যে, নিয়মিত অনুশীলন একটি দক্ষতা অর্জনের জন্য অপরিহার্য। যত বেশি অনুশীলন করা হবে, তত বেশি দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
- শিক্ষার প্রক্রিয়া: এই তত্ত্বের মাধ্যমে শিক্ষার প্রক্রিয়াকে কার্যকরী করা যায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক আচরণ গড়ে তোলার জন্য সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্বের নীতিগুলি ব্যবহার করা হয়।
- আচরণগত পরিবর্তন: সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্বের মাধ্যমে আচরণগত পরিবর্তন সম্ভব। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন দক্ষতা অর্জন এবং ইতিবাচক আচরণ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
সারসংক্ষেপে, সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্বটি শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি কার্যকরী পদ্ধতি, যা শিক্ষার্থীদের আচরণ পরিবর্তন এবং দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।
(b)
'মনোযোগের' যে কোনো সাতটি নির্ধারক সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখুন।
মনোযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রক্রিয়া, যা শেখার এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য অপরিহার্য। মনোযোগের বিভিন্ন নির্ধারক রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এখানে মনোযোগের সাতটি নির্ধারক উল্লেখ করা হলো:
- আগ্রহ: শিক্ষার্থীর আগ্রহ একটি প্রধান নির্ধারক। যদি একটি বিষয় শিক্ষার্থীর জন্য আকর্ষণীয় হয়, তবে তার মনোযোগ সেই বিষয়ের প্রতি বেশি থাকবে।
- প্রয়োজনীয়তা: শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয়তা বা উদ্দেশ্য মনোযোগের উপর প্রভাব ফেলে। যখন শিক্ষার্থীরা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য মনোযোগ দেয়, তখন তারা আরও কার্যকরভাবে শিখতে পারে।
- পরিবেশ: শিক্ষার পরিবেশও মনোযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। শান্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে শিক্ষার্থীরা বেশি মনোযোগী থাকে, যেখানে অশান্ত পরিবেশ তাদের মনোযোগকে বিভ্রান্ত করে।
- অভিজ্ঞতা: পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীর মনোযোগকে প্রভাবিত করে। যদি শিক্ষার্থীরা পূর্বে একটি বিষয় সম্পর্কে জানে, তবে তারা সেই বিষয়ে আরও মনোযোগী হয়।
- মানসিক অবস্থা: শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা,
যেমন উদ্বেগ বা চাপ, মনোযোগের উপর প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপ থাকলে শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিতে পারে না।
- উদ্দীপনা: উদ্দীপক বিষয় বা ঘটনা শিক্ষার্থীর মনোযোগ আকর্ষণ করে। উদ্দীপক উপাদানগুলি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং তাদের মনোযোগ বৃদ্ধি করে।
- সামাজিক প্রভাব: সামাজিক পরিবেশ, যেমন বন্ধুদের উপস্থিতি বা শিক্ষকের আচরণ, শিক্ষার্থীর মনোযোগকে প্রভাবিত করে। ইতিবাচক সামাজিক সমর্থন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
এই সাতটি নির্ধারক মনোযোগের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং শিক্ষার্থীদের শেখার দক্ষতা উন্নত করতে সহায়তা করে।
(c)
খেলার সঙ্গে শিশুর শারীরিক ও সামাজিক বিকাশের সম্পর্ক সংক্ষেপে বর্ণনা করুন।
খেলা শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি সৃজনশীল কার্যকলাপ, যা শিশুরা আনন্দের সাথে করে এবং তাদের বিকাশে সহায়তা করে। খেলার মাধ্যমে শিশুরা বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করে এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।
শারীরিক বিকাশ:
- শারীরিক দক্ষতা: খেলার মাধ্যমে শিশুরা শারীরিক দক্ষতা যেমন সমন্বয়,
শক্তি, এবং স্থিতিশীলতা উন্নত করে। বিভিন্ন খেলাধুলা যেমন দৌড়, লাফানো, এবং বল খেলা শিশুর শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- স্বাস্থ্য: নিয়মিত খেলা শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। এটি তাদের শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং স্থূলতা, হৃদরোগের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করে।
- মোটর দক্ষতা: খেলার মাধ্যমে শিশুরা মোটর দক্ষতা যেমন হাতের ও চোখের সমন্বয় এবং সূক্ষ্ম পেশির সঞ্চালন উন্নত করে। এটি তাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপের জন্য অপরিহার্য।
সামাজিক বিকাশ:
- সহযোগিতা: খেলার মাধ্যমে শিশুরা সহযোগিতা ও দলবদ্ধ কাজের গুরুত্ব শিখে। তারা একসাথে কাজ করে এবং একে অপরের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- যোগাযোগ: খেলার সময় শিশুরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে, যা তাদের সামাজিক দক্ষতা উন্নত করে। তারা কথা বলা, শোনার এবং মতামত প্রকাশের দক্ষতা অর্জন করে।
- সমস্যা সমাধান: খেলার মাধ্যমে শিশুরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে। তারা একে অপরের সাথে আলোচনা করে এবং সমাধান খুঁজে বের করে।
সারসংক্ষেপে, খেলা শিশুর শারীরিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। এটি তাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে, যা তাদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Group D
(a)
নির্মিতিবাদ কাকে বলে? নির্মিতিবাদ কয় প্রকার ও কী কী? ভাইগটস্কির নির্মিতিবাদের তত্ত্বটি শিক্ষাগত তাৎপর্যসহ সংক্ষেপে লিখুন।
নির্মিতিবাদ (Constructivism) হলো একটি শিক্ষাগত তত্ত্ব যা জানায় যে, শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জ্ঞান তৈরি করে। এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, জ্ঞান একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবেশের সাথে যোগাযোগ করে এবং নতুন তথ্যের সাথে পূর্ববর্তী জ্ঞানের সংযোগ স্থাপন করে। নির্মিতিবাদে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শেখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নির্মিতিবাদের প্রকারভেদ: নির্মিতিবাদ প্রধানত দুই প্রকারে বিভক্ত:
- সামাজিক নির্মিতিবাদ (Social Constructivism):
- এই দৃষ্টিভঙ্গিতে বলা হয় যে, জ্ঞান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়। ভাইগটস্কির তত্ত্ব এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি উদাহরণ। এখানে শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে সহযোগিতা করে এবং সামাজিক ইন্টারঅ্যাকশনের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে।
- সামাজিক নির্মিতিবাদে শিক্ষকের ভূমিকা হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতা উৎসাহিত করা।
- ব্যক্তিগত নির্মিতিবাদ (Personal Constructivism):
- এই দৃষ্টিভঙ্গিতে বলা হয় যে, জ্ঞান ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তৈরি হয়। পিয়াজের তত্ত্ব এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি উদাহরণ। এখানে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন ধারণা তৈরি করে।
- ব্যক্তিগত নির্মিতিবাদে শিক্ষকের ভূমিকা হলো শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা।
ভাইগটস্কির নির্মিতিবাদের তত্ত্ব: ভাইগটস্কির নির্মিতিবাদ শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। তার তত্ত্বের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
- সামাজিক ইন্টারঅ্যাকশন:
- ভাইগটস্কি বিশ্বাস করতেন যে, সামাজিক ইন্টারঅ্যাকশন শিক্ষার জন্য অপরিহার্য। শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে আলোচনা করে এবং তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, যা তাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করে।
- জেডোনিক উন্নয়ন (Zone of Proximal Development - ZPD):
- ভাইগটস্কি ZPD ধারণাটি উপস্থাপন করেন,
যা নির্দেশ করে যে, শিক্ষার্থীরা তাদের বর্তমান জ্ঞানের স্তরের উপরে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ করতে পারে, যদি তাদের সহায়তা করা হয়। এই সহায়তা শিক্ষকের বা সহপাঠীর মাধ্যমে হতে পারে।
- ভাষার ভূমিকা:
- ভাইগটস্কি ভাষাকে শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেন। ভাষা শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
শিক্ষাগত তাৎপর্য: ভাইগটস্কির নির্মিতিবাদের শিক্ষাগত তাৎপর্য হলো:
- শিক্ষার প্রক্রিয়া: শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের সামাজিক ইন্টারঅ্যাকশনের মাধ্যমে শেখানো,
যাতে তারা একে অপরের সাথে আলোচনা করে এবং নতুন ধারণা তৈরি করতে পারে।
- সহায়তা প্রদান: শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের ZPD অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা, যাতে তারা তাদের সম্ভাব্যতা অনুযায়ী শিখতে পারে।
- ভাষার ব্যবহার: শিক্ষকদের উচিত ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা, যাতে তারা তাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নির্মিতিবাদ একটি শক্তিশালী শিক্ষাগত তত্ত্ব, যা শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ইন্টারঅ্যাকশনের মাধ্যমে শেখার উপর গুরুত্ব দেয়। ভাইগটস্কির তত্ত্ব শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, যা শিক্ষকদের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে।
(b)
খেলার সংজ্ঞা দিন। খেলা কয়প্রকার ও কী কী? সংক্ষেপে খেলার বৈশিষ্ট্যগুলি বর্ণনা করুন।
খেলার সংজ্ঞা:
খেলা হলো একটি সৃজনশীল ও আনন্দময় কার্যকলাপ, যা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়তা করে। এটি সাধারণত বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে করা হয় এবং এতে নিয়ম, প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার উপাদান থাকে। খেলা শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
খেলার প্রকার: খেলা প্রধানত দুই প্রকারে বিভক্ত:
- গঠনমূলক খেলা (Constructive Play):
- এই ধরনের খেলায় শিশুরা বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে নতুন কিছু তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, ব্লক দিয়ে বাড়ি তৈরি করা বা শিল্পকর্ম তৈরি করা। এটি শিশুর সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করে।
- প্রতিযোগিতামূলক খেলা (Competitive Play):
- এই ধরনের খেলায় শিশুরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে। উদাহরণস্বরূপ, দৌড়, ফুটবল বা বাস্কেটবল। এটি শিশুর মধ্যে প্রতিযোগিতার অনুভূতি তৈরি করে এবং তাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
খেলার বৈশিষ্ট্য: খেলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো:
- সৃজনশীলতা:
- খেলা শিশুর সৃজনশীলতা প্রকাশের একটি মাধ্যম। শিশুরা তাদের কল্পনা ও চিন্তাভাবনা ব্যবহার করে নতুন ধারণা তৈরি করে।
- আনন্দ:
- খেলা একটি আনন্দময় কার্যকলাপ, যা শিশুরা উপভোগ করে। এটি তাদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে এবং তাদের মেজাজ উন্নত করে।
- সহযোগিতা:
- অনেক খেলায় শিশুরা একসাথে কাজ করে, যা তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও দলবদ্ধ কাজের অনুভূতি তৈরি করে। এটি সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- শারীরিক কার্যকলাপ:
- খেলা শিশুর শারীরিক বিকাশে সহায়তা করে। এটি তাদের শারীরিক সক্ষমতা, শক্তি এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে।
- সমস্যা সমাধান:
- খেলার মাধ্যমে শিশুরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে। তারা একে অপরের সাথে আলোচনা করে এবং সমাধান খুঁজে বের করে।
- নিয়ম ও কাঠামো:
- খেলার মধ্যে সাধারণত কিছু নিয়ম ও কাঠামো থাকে,
যা খেলাকে সংগঠিত করে। এই নিয়মগুলি শিশুর মধ্যে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
সারসংক্ষেপে, খেলা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। এটি তাদের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে। খেলার মাধ্যমে শিশুরা আনন্দ পায় এবং তাদের বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়।