WB B.Ed. Optional Paper গাইডেন্স ও কাউন্সেলিং (কোর্স ১.৪.১১)

WB B.Ed. Optional Paper গাইডেন্স ও কাউন্সেলিং (কোর্স ১.৪.১১)

G Success for Better Future
0

 

Optional Paper

গাইডেন্স  কাউন্সেলিং (কোর্স ১.৪.১১)

Group A

1.     গাইডেন্স এর দুটি নীতি:
গাইডেন্সে গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ক্লায়েন্টের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ থাকে এছাড়া, ব্যক্তির স্বাধীনতা সম্মান বজায় রাখা হয়, অর্থাৎ কাউন্সেলিংয়ে কাউকে জোরপূর্বক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয় না

2.     বিষণ্নতার লক্ষণ:
বিষণ্নতার প্রধান লক্ষণ হলো দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ, আগ্রহের অভাব, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, আত্মসম্মানহীনতা এবং মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চিন্তা এসব লক্ষণ ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন কাজকর্মে প্রভাব ফেলে

3.     বুদ্ধিমত্তা সূচক (IQ) সংজ্ঞা:
IQ
হলো একটি মানসিক পরিমাপক যা ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার মাত্রা নির্ধারণ করে এটি বয়স অনুযায়ী মানসিক দক্ষতা সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা পরিমাপ করে, যা শিক্ষাগত পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ

4.     DSM-IV কী?
DSM-IV (Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders, Fourth Edition)
হলো মানসিক রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, যা বিভিন্ন মানসিক রোগের শ্রেণীবিভাগ লক্ষণসমূহ নির্ধারণ করে

5.     ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এর ধাপ:
প্রথমে ক্লায়েন্টের তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তারপর তার সমস্যা নির্ণয় করা হয় এরপর বিভিন্ন পেশার বিকল্প মূল্যায়ন করা হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করা হয় এবং অবশেষে পরিকল্পনা তৈরি করে তার অনুসরণ করা হয়

6.     ভোকেশনাল গাইডেন্স কী?
ভোকেশনাল গাইডেন্স হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যক্তিকে তার আগ্রহ, দক্ষতা ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী সঠিক পেশা নির্বাচন কর্মজীবন পরিকল্পনায় সহায়তা করে

7.     সহানুভূতি (Empathy) সংজ্ঞা:
সহানুভূতি হলো অন্যের অনুভূতি, চিন্তা অবস্থান বুঝে তার প্রতি সহমর্মিতা সমর্থন প্রদর্শন করার ক্ষমতা, যা কাউন্সেলিংয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে

8.     ভালো কাউন্সেলরের চারটি গুণ:
ভালো কাউন্সেলরকে শ্রবণশীল হতে হয়, ধৈর্যশীল হতে হয়, গোপনীয়তা রক্ষা করতে হয় এবং ক্লায়েন্টের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হয় এসব গুণ তাকে কার্যকরী করে তোলে

9.     সাক্ষাত্কারের দুটি অসুবিধা:
সাক্ষাত্কার প্রক্রিয়া অনেক সময়সাপেক্ষ হতে পারে এবং এতে ব্যক্তিগত পক্ষপাত বা পূর্বাগ্রহের কারণে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হতে পারে

10. নন-ডাইরেক্টিভ কাউন্সেলিং এর সুবিধা:
এই পদ্ধতিতে ক্লায়েন্টের স্বাধীনতা বৃদ্ধি পায় এবং সে নিজের সমস্যা সমাধান সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হয়, কারণ কাউন্সেলর তাকে নির্দেশনা দেয় না

11. CRC তে সংরক্ষিত তথ্য:
ক্যারিয়ার রিসোর্স সেন্টারে (CRC) শিক্ষার্থী পেশাগত তথ্য, স্বাস্থ্য মানসিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ সংরক্ষণ করা হয়

12. অটিজম কী?
অটিজম হলো একটি বিকাশগত ব্যাধি যা সামাজিক যোগাযোগ আচরণে সমস্যা সৃষ্টি করে, যার ফলে ব্যক্তি অন্যদের সাথে সম্পর্ক গড়তে ভাষা ব্যবহার করতে অসুবিধা অনুভব করে

13. ফোবিয়া সংজ্ঞা:
ফোবিয়া হলো অকারণভিত্তিক অতিরিক্ত ভয় বা আতঙ্ক, যা সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো বস্তু, স্থান বা পরিস্থিতির প্রতি হয় এবং ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে

14. অ্যান্টি-সোশ্যাল আচরণের উদাহরণ:
অ্যান্টি-সোশ্যাল আচরণের মধ্যে মিথ্যা বলা এবং চুরি করা অন্তর্ভুক্ত, যা সমাজের নিয়ম নৈতিকতার বিরুদ্ধে যায় এবং অন্যদের ক্ষতি করে

Group B

1. গাইডেন্স শিক্ষার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত?

সূচনা:
গাইডেন্স হলো শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, শিক্ষাগত পেশাগত বিকাশে সহায়তা করার প্রক্রিয়া এটি শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, কারণ শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করে, আর গাইডেন্স তাদের সেই জ্ঞানকে সঠিক পথে ব্যবহার করতে সাহায্য করে

সম্পর্ক:

  • শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি: গাইডেন্স শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ মনোযোগ বাড়ায়, ফলে শিক্ষার মান উন্নত হয়
  • শিক্ষার্থীর সমস্যা সমাধান: শিক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মানসিক সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হয়, গাইডেন্স তাদের এসব সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা করে
  • পেশা ক্যারিয়ার নির্বাচন: শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা আগ্রহ অনুযায়ী পেশা নির্বাচন করতে গাইডেন্স সাহায্য করে
  • আত্মবিশ্বাস আত্মসম্মান বৃদ্ধি: গাইডেন্স শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, যা শিক্ষার সফলতার জন্য অপরিহার্য
  • শিক্ষা জীবন দক্ষতার সমন্বয়: গাইডেন্স শিক্ষার্থীদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করে, যা শিক্ষার পরিধি বাড়ায়

উপসংহার:
গাইডেন্স শিক্ষা পরস্পরের পরিপূরক গাইডেন্স শিক্ষাকে আরও ফলপ্রসূ অর্থবহ করে তোলে, যা শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে


2. গ্রুপ কাউন্সেলিং এর সুবিধা সীমাবদ্ধতা সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়ন করুন

সূচনা:
গ্রুপ কাউন্সেলিং হলো একাধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে পরিচালিত একটি কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া, যেখানে সদস্যরা একে অপরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সমস্যার সমাধান খোঁজে

সুবিধা:

  • সহযোগিতা সমর্থন: সদস্যরা একে অপরকে সমর্থন উৎসাহ দেয়, যা মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে
  • বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি: বিভিন্ন সদস্যের অভিজ্ঞতা মতামত শোনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়
  • সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি: সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ সম্পর্ক গড়ার সুযোগ পায়
  • অর্থনৈতিক সময় সাশ্রয়: একসাথে কাউন্সেলিং হওয়ায় সময় খরচ কম লাগে

সীমাবদ্ধতা:

  • গোপনীয়তার অভাব: ব্যক্তিগত বিষয় গ্রুপে শেয়ার করতে অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত হয়
  • ব্যক্তিগত মনোযোগের অভাব: কাউন্সেলরের মনোযোগ সব সদস্যের জন্য সমানভাবে দেওয়া কঠিন
  • গ্রুপের গঠন পরিবেশ: সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিবেশ যদি ভালো না হয়, তাহলে কার্যকারিতা কমে যায়
  • বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের সংঘাত: সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ বা সংঘাত হতে পারে, যা কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে

উপসংহার:
গ্রুপ কাউন্সেলিংয়ের সুবিধা অনেক হলেও এর সীমাবদ্ধতাগুলোও বিবেচনা করা জরুরি সঠিক পরিকল্পনা দক্ষ পরিচালনায় এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা সম্ভব


3. মানসিক অসামঞ্জস্যতার কারণ আলোচনা করুন

সূচনা:
মানসিক অসামঞ্জস্যতা হলো ব্যক্তির মানসিক আবেগগত স্থিতিশীলতার অভাব, যা তার দৈনন্দিন জীবন সম্পর্ককে প্রভাবিত করে

কারণ:

  • জেনেটিক কারণ: পরিবারের ইতিহাসে মানসিক রোগ থাকলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়
  • মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা: সেরোটোনিন, ডোপামিনের অনিয়ম মানসিক অসুস্থতার কারণ হতে পারে
  • পরিবেশগত চাপ: পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সংকট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে
  • শারীরিক অসুস্থতা: দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা আঘাত মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে
  • আঘাতজনিত অভিজ্ঞতা: শৈশবে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন মানসিক অসামঞ্জস্যতার কারণ হতে পারে
  • মাদকাসক্তি: মাদক সেবন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বিঘ্নিত করে মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়

উপসংহার:
মানসিক অসামঞ্জস্যতার কারণ বহুমুখী জটিল সঠিক নির্ণয় চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব


4. ইন্টারেস্ট ইনভেন্টরি এর ব্যবহার লিখুন

সূচনা:
ইন্টারেস্ট ইনভেন্টরি হলো একটি মানসিক পরীক্ষা যা ব্যক্তির পছন্দ আগ্রহ নির্ণয় করে, বিশেষ করে পেশা শিক্ষাগত দিকনির্দেশনার জন্য ব্যবহৃত হয়

ব্যবহার:

  • ক্যারিয়ার নির্বাচন: শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের তাদের আগ্রহ অনুযায়ী সঠিক পেশা নির্ধারণে সাহায্য করে
  • শিক্ষাগত পরিকল্পনা: শিক্ষার্থীদের তাদের আগ্রহের বিষয় নির্বাচন করতে সহায়তা করে
  • ব্যক্তিত্ব বিকাশ: নিজস্ব আগ্রহ পছন্দ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে
  • কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া: কাউন্সেলরদের ক্লায়েন্টের পছন্দ বুঝতে সাহায্য করে
  • কর্মসংস্থান: চাকরিদাতাদের জন্য কর্মী নির্বাচন প্রশিক্ষণে সহায়ক
  • সমাজসেবা: বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত কর্মসূচি নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়

উপসংহার:
ইন্টারেস্ট ইনভেন্টরি ব্যক্তির পেশাগত শিক্ষাগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক


5. ওসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার এর লক্ষণ ব্যাখ্যা করুন

সূচনা:
ওসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD) হলো একটি মানসিক রোগ যেখানে ব্যক্তি নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় চিন্তা (ওসেসিভ) পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ (কমপালসিভ) করে

লক্ষণ:

  • ওসেসিভ চিন্তা: অপ্রয়োজনীয়, অবাঞ্ছিত পুনরাবৃত্তিমূলক চিন্তা বা ছবি যেমন, জীবাণু সংক্রমণের ভয়
  • কমপালসিভ আচরণ: নির্দিষ্ট কাজ বারবার করা, যেমন হাত ধোয়া, দরজা চেক করা
  • আত্মসমালোচনা: নিজের চিন্তা আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া
  • সময় নষ্ট: ওসেসিভ কমপালসিভ কাজের কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়া
  • মানসিক চাপ: উদ্বেগ, হতাশা ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়
  • সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: অন্যদের থেকে দূরে থাকা বা সম্পর্ক কমানো

উপসংহার:
OCD
একটি জটিল মানসিক রোগ যা সময়মতো চিকিৎসা থেরাপির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়


6. ADHD এর লক্ষণ চিকিৎসা আলোচনা করুন

সূচনা:
Attention Deficit Hyperactivity Disorder (ADHD)
হলো একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যা, যা শিশু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মনোযোগের অভাব, অতিরিক্ত সক্রিয়তা আচরণগত সমস্যা সৃষ্টি করে

লক্ষণ:

  • মনোযোগের অভাব: কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা
  • অতিসক্রিয়তা: স্থির থাকতে না পারা, বারবার চলাফেরা করা
  • আচরণগত সমস্যা: ধৈর্য হারানো, নিয়ম ভঙ্গ করা
  • আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব: নিজের আবেগ আচরণ নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা
  • শিক্ষাগত সামাজিক সমস্যা: পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, বন্ধুদের সাথে সমস্যা

চিকিৎসা:

  • মেডিকেশন: স্টিমুল্যান্ট অস্টিমুল্যান্ট ওষুধ ব্যবহৃত হয়
  • থেরাপি: আচরণ থেরাপি, কাউন্সেলিং পারিবারিক সমর্থন
  • শিক্ষাগত সহায়তা: বিশেষ শিক্ষণ পদ্ধতি পরিবেশ
  • জীবনধারা পরিবর্তন: নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্য ঘুমের অভ্যাস

উপসংহার:
ADHD
একটি চ্যালেঞ্জিং সমস্যা হলেও সঠিক চিকিৎসা সমর্থনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব এবং রোগীর জীবনমান উন্নত করা যায়

7. কাউন্সেলর কোন ধরনের সাক্ষাৎকার ব্যবহার করতে পারে তা আলোচনা করুন

সূচনা:
সাক্ষাৎকার হলো কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যার মাধ্যমে কাউন্সেলর ক্লায়েন্টের সমস্যা, অনুভূতি মনোভাব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন পরিস্থিতি উদ্দেশ্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের সাক্ষাৎকার ব্যবহার করা হয়

সাক্ষাৎকারের ধরন:

  • স্ট্রাকচার্ড (Structured) সাক্ষাৎকার: এতে পূর্বনির্ধারিত প্রশ্নাবলী থাকে যা নির্দিষ্ট ক্রমে অনুসরণ করা হয় এটি তথ্য সংগ্রহে সুনির্দিষ্ট তুলনামূলক সহজ তবে এটি ক্লায়েন্টের ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশে সীমাবদ্ধ হতে পারে
  • আনস্ট্রাকচার্ড (Unstructured) সাক্ষাৎকার: এখানে কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকে না, কাউন্সেলর ক্লায়েন্টের কথোপকথনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এটি বেশি নমনীয় এবং ক্লায়েন্টের গভীর অনুভূতি জানার সুযোগ দেয়
  • সেমি-স্ট্রাকচার্ড (Semi-structured) সাক্ষাৎকার: কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকে, তবে ক্লায়েন্টের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী নতুন প্রশ্ন যোগ করা যায় এটি স্ট্রাকচার্ড আনস্ট্রাকচার্ডের সমন্বয়
  • ফোকাসড (Focused) সাক্ষাৎকার: নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা বা বিষয়ের উপর কেন্দ্রীভূত হয়, যেমন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বা ক্যারিয়ার সমস্যা
  • গবেষণামূলক সাক্ষাৎকার: গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়, যেখানে কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নাবলী থাকে

উপসংহার:
কাউন্সেলর পরিস্থিতি ক্লায়েন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সাক্ষাৎকার ব্যবহার করে, যা কার্যকর তথ্য সংগ্রহ সমস্যা সমাধানে সহায়ক হয়


8. ফোবিয়া সম্পর্কে একটি নোট লিখুন

সূচনা:
ফোবিয়া হলো একটি মানসিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো বস্তু, স্থান বা পরিস্থিতি নিয়ে অকারণভিত্তিক অতিরিক্ত ভয় অনুভব করে এটি সাধারণ ভয়ের থেকে আলাদা কারণ এটি অযৌক্তিক এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে

বৈশিষ্ট্য:

  • অতিরিক্ত ভয়: ভয়ের বিষয়টি বাস্তবিক বিপদের তুলনায় অনেক বেশি
  • পরিহার প্রবণতা: ব্যক্তি ভয়ের বিষয়টি এড়ানোর চেষ্টা করে, যা তার দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে
  • শারীরিক প্রতিক্রিয়া: হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, ঘাম, শ্বাসকষ্ট, কম্পন ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়
  • সাধারণ ফোবিয়ার উদাহরণ: উচ্চতা ভয় (Acrophobia), সাপ ভয় (Ophidiophobia), জনসমাগম ভয় (Agoraphobia), বন্ধ স্থান ভয় (Claustrophobia)
  • কারণ: শৈশবের ট্রমা, জেনেটিক প্রবণতা, পরিবেশগত প্রভাব ইত্যাদি

উপসংহার:
ফোবিয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও সঠিক থেরাপি, যেমন সাইকোথেরাপি ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব


9. মানসিক স্বাস্থ্যের নির্ধারকগুলি উল্লেখ করুন

সূচনা:
মানসিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে বিভিন্ন জটিল আন্তঃসম্পর্কিত কারণের উপর, যা ব্যক্তির সামগ্রিক সুস্থতা জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে

নির্ধারকগুলি:

  • জেনেটিক বংশগত কারণ: পরিবারের মানসিক রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে
  • পরিবেশগত প্রভাব: পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, আর্থিক সংকট মানসিক চাপ সৃষ্টি করে
  • শারীরিক স্বাস্থ্য: দীর্ঘস্থায়ী রোগ, পুষ্টিহীনতা শারীরিক আঘাত মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে
  • ব্যক্তিত্ব মানসিক গঠন: আত্মসম্মান, ধৈর্য, মানসিক স্থিতিশীলতা মানসিক স্বাস্থ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ
  • সামাজিক সমর্থন: পরিবার, বন্ধু সমাজের সহায়তা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে
  • জীবনধারা: নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক সুস্থতা বজায় রাখে
  • মানসিক চাপ চাপ মোকাবিলা দক্ষতা: চাপের মাত্রা তার মোকাবিলার ক্ষমতা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
  • শিক্ষা অর্থনৈতিক অবস্থা: শিক্ষার অভাব আর্থিক সমস্যা মানসিক অসুস্থতার কারণ হতে পারে

উপসংহার:
মানসিক স্বাস্থ্যের নির্ধারকগুলি বহুমুখী এবং একে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে সঠিক যত্ন সমর্থন প্রদান জরুরি


10. কেস স্টাডি পদ্ধতির বিভিন্ন ধাপ সংক্ষেপে আলোচনা করুন

সূচনা:
কেস স্টাডি পদ্ধতি হলো একটি গবেষণামূলক পদ্ধতি যা নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ঘটনার গভীর বিশ্লেষণ করে তথ্য সংগ্রহ বিশ্লেষণ করে

ধাপসমূহ:

  • বিষয় নির্বাচন: গবেষণার জন্য উপযুক্ত প্রাসঙ্গিক বিষয় নির্ধারণ
  • তথ্য সংগ্রহ: সাক্ষাৎকার, পর্যবেক্ষণ, নথিপত্র অন্যান্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ
  • তথ্য বিশ্লেষণ: সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে সমস্যা কারণ নির্ণয়
  • প্রতিবেদন প্রস্তুতি: গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ লিখিত আকারে উপস্থাপন
  • সমাধান প্রস্তাব: সমস্যা সমাধানের জন্য সুপারিশ কার্যকরী পরিকল্পনা প্রদান
  • ফলো-আপ: প্রয়োজনে ফলাফল পর্যবেক্ষণ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ

উপসংহার:
কেস স্টাডি পদ্ধতি গভীর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কার্যকর, যা বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে সহায়ক


11. মাধ্যমিক পর্যায়ে গাইডেন্স প্রোগ্রামের প্রয়োজনীয়তা কেন?

সূচনা:
মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে থাকে, যেখানে গাইডেন্স প্রোগ্রাম তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়

প্রয়োজনীয়তা:

  • ক্যারিয়ার পেশা নির্বাচন: শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, দক্ষতা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক পেশা নির্বাচন করতে সাহায্য করে
  • মানসিক সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা: আবেগগত চাপ, আত্মবিশ্বাসের অভাব সামাজিক সমস্যা সমাধানে সহায়তা
  • শিক্ষাগত উন্নতি: পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়
  • আত্মবিশ্বাস আত্মসম্মান বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের নিজেকে মূল্যায়ন আত্মবিশ্বাসী হতে উৎসাহিত করে
  • ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি: উচ্চশিক্ষা, পেশা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে সফলতার জন্য প্রস্তুত করে
  • পরিবার সমাজের সাথে সমন্বয়: শিক্ষার্থীদের পারিবারিক সামাজিক দায়িত্ব বুঝতে সাহায্য করে

উপসংহার:
মাধ্যমিক পর্যায়ে গাইডেন্স প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে অপরিহার্য, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলে


12. প্যাথলজিক্যাল মিথ্যার কারণ কী কী?

সূচনা:
প্যাথলজিক্যাল মিথ্যা হলো এমন মিথ্যা বলা যা ব্যক্তির মানসিক সমস্যার কারণে হয় এবং এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে

কারণসমূহ:

  • মানসিক চাপ উদ্বেগ: চাপ থেকে মুক্তি পেতে মিথ্যা বলা
  • মনোযোগ আকর্ষণ: অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ সহানুভূতি পাওয়ার জন্য
  • আত্মসম্মানহীনতা: নিজের অবস্থা লুকাতে বা ভালো দেখানোর জন্য
  • পারিবারিক সামাজিক পরিবেশ: মিথ্যার পরিবেশে বেড়ে ওঠা
  • আত্মপরিচয় সংকট: নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে মিথ্যা বলা
  • অপরাধবোধ থেকে পালানো: ভুল বা অপরাধ ঢাকতে মিথ্যা বলা
  • মানসিক রোগ: যেমন প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়া বা অন্যান্য মানসিক রোগে মিথ্যা বলা হতে পারে

উপসংহার:
প্যাথলজিক্যাল মিথ্যার কারণ জটিল বহুমুখী সঠিক মানসিক চিকিৎসা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব

Group C

1. মানসিক স্বাস্থ্য কী?

মানসিক স্বাস্থ্য বলতে একজন ব্যক্তির মানসিক, আবেগগত, এবং সামাজিক সুস্থতাকে বোঝানো হয়

  • এটি মানুষের চিন্তা, অনুভূতি আচরণের উপর প্রভাব ফেলে; মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পর্ক গঠন এবং স্ট্রেস মোকাবিলার ক্ষমতা নির্ভর করে
  • সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য মানে শুধু মানসিক রোগের অনুপস্থিতি নয়, বরং ইতিবাচক মানসিক অবস্থানযেমন আত্মবিশ্বাস, আশাবাদিতা, অনুভূতির নিয়ন্ত্রণ, এবং জীবনের প্রতি গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি
  • মানসিক স্বাস্থ্য জীবনের প্রতিটি স্তরেশৈশব, কৈশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কতায়গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

উদাহরণ:

  • একজন ছাত্র পরীক্ষায় খারাপ ফল করলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সে হতাশ বা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারে
  • আবার, সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যের ফলে ছাত্র-বান্ধবিতা, পরিবার স্কুলে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, জীবনে স্ট্রেস সহজে মোকাবিলা করা যায়

মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় গৃহ বিদ্যালয়ের ভূমিকা

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বাড়ি স্কুলের যৌথ ভূমিকা অপরিসীম

গৃহের ভূমিকা:

  • নিরাপদ, সহযোগিতাপূর্ণ, এবং ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ উদ্বেগ মানসিক চাপে হ্রাস আনে
  • বাবা-মায়ের ইতিবাচক আচরণযেমন উৎসাহদান, শ্রবণ, এবং সঠিক জীবনমূল্য শেখানোশিশুর আত্মমূল্যবোধ বৃদ্ধি করে
  • পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ আবেগগত সাপোর্ট মানসিক সমস্যা কমায়

বিদ্যালয়ের ভূমিকা:

  • বিদ্যালয়ে শিক্ষকের অনুপ্রেরণা, গঠনমূলক ফিডব্যাক এবং যোগ্য কাউন্সেলিং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
  • বিদ্যালয়-ভিত্তিক কাউন্সেলিং, মানসিক স্বাস্থ্য কর্মশালা, এবং শিক্ষক-কাউন্সেলর সহযোগিতা ছাত্রদের মানসিক বিকাশে সাহায্য করে
  • বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক, সহানুভূতির পরিবেশ, এবং সহপাঠীদের সহযোগিতা শিশুর মানসিক সুস্থতাকে শক্তিশালী করে

উপযুক্ত উদাহরণ:

  • স্কুলে গ্রুপ কাউন্সেলিং আয়োজন, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট সেশন, এবং শিক্ষক-অভিভাবক যোগাযোগ ছাত্রদের ভারসাম্যপূর্ণ মানসিক গঠনে সহায়ক

2. শ্রেণিকক্ষে অর্জন দক্ষতা পরীক্ষার ব্যবহার

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অর্জন দক্ষতা মূল্যায়নের প্রচলিত এবং আধুনিক নানা পদ্ধতি রয়েছে

  • অর্জনমূল্যায়ন (Achievement Assessment): শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট বিষয়ের জ্ঞান, ধারণা দক্ষতা কতটুকু অর্জিত হয়েছে তা যাচাই করা
  • দক্ষতা মূল্যায়ন (Skill Assessment): শিক্ষার্থী নানাLife skills, communication, problem-solving, creative thinking ইত্যাদি বিষয়ে কতটা দক্ষ তা নির্ধারণ

মূল্যায়নের পদ্ধতিসমূহ:

  • লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক প্রশ্নাবলি, প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়ন, উপস্থাপনা, গ্রুপ ডিসকাশন, পারস্পরিক মূল্যায়ন (peer review), এবং অনলাইন কুইজ
  • ক্রমাগত (Continiuous) মূল্যায়ন: একবারের পরীক্ষা নয়, বরং সারা বছরে ছোট ছোট পরীক্ষা অবলোকন

উদাহরণ:

  • বাংলা ভাষা ক্লাসেনিবন্ধন লেখা, সামগ্রিক পাঠ্যাংশ বোঝা, শ্রুতিলিখন, এবং নাটকীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে ছাত্রের ভাষাজ্ঞান, সৃজনশীলতা উপস্থাপন দক্ষতা পরীক্ষা

বৈশিষ্ট্য:

  • দক্ষতা পরীক্ষার ফলে শিক্ষার্থীর শক্তি দুর্বলতা চিহ্নিত হয়, এবং শিক্ষক পড়ানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারেন
  • অর্জন দক্ষতা নির্ধারণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ শিক্ষাপদ্ধতি নির্ধারণ সহজ হয়
  • শিক্ষার্থী জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কৌশল আয়ত্ত করতে পারেযেমন দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ দক্ষতা

3. ডাইরেক্টিভ নন-ডাইরেক্টিভ কাউন্সেলিং এর তুলনামূলক বিবরণ

কাউন্সেলিং পদ্ধতি দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করে

ডাইরেক্টিভ (Directive Counselling)

  • পরামর্শদাতা প্রধান ভূমিকা পালন করেন; সমস্যার বিশ্লেষণ, রোগ নির্ণয় এবং নির্ধারিত সমাধান প্রদান করেন
  • ক্লায়েন্টের সমস্যার উপর গুরুত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গাইডেন্স সরবরাহ, করণীয় নির্ধারণ
  • নেতৃত্ব দেন E.G. Williamson (প্রবক্তা)
  • সুবিধা: দ্রুত সমস্যার সমাধান; যারা দ্বিধাগ্রস্ত, সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম না, তাদের জন্য কার্যকর
  • সীমাবদ্ধতা: ক্লায়েন্টের ব্যক্তিত্ব স্ব-সমাধান ক্ষমতা বিকাশ পায় না

নন-ডাইরেক্টিভ (Non-Directive Counselling)

  • ব্যক্তিকেন্দ্রিক; ক্লায়েন্ট স্বস্ব সমস্যা, অনুভূতি সিদ্ধান্তের মালিক
  • পরামর্শদাতা শুনতে সমর্থন দিতে ভূমিকা রাখেন; সমাধানের পথ ক্লায়েন্টই বের করে
  • প্রবক্তা: Carl Rogers (Self Theory)
  • সুবিধা: স্বনির্ভরতা, আত্মবিশ্বাস, সমস্যার অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি
  • সীমাবদ্ধতা: সময়সাপেক্ষ; সমস্যা জটিল হলে কার্যকর নাও হতে পারে

তুলনামূলক উদাহরণ:

  • Directive: ছাত্রের ক্যারিয়ার সমস্যা নিয়ে কৌশলী পরামর্শদাতা সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্ট দিক নির্দেশ দেন
  • Non-directive: শিক্ষার্থী তার ভেতরের অনুভূতি চাহিদা খুলে বলতে পারে, পরামর্শদাতা শুধু প্রয়োজনীয় পরিবেশ পথপ্রদর্শন করেন

4. স্ট্যানফোর্ড-বিনেট স্কেল (১৯৩৭) এর বুদ্ধিমত্তা মূল্যায়ন সংক্ষেপে আলোচনা

Stanford–Binet Intelligence Scale (১৯৩৭) একটি বহুল-প্রচলিত বুদ্ধিমত্তা নিরূপণ পরীক্ষা

মূল বৈশিষ্ট্য:

  • অ্যালফ্রেড বিনে থিওফিল সাইমন প্রাথমিকভাবে নির্মাণ করেন, পরে লুইস টারম্যান Stanford University-তে 1916 সালে সংস্করণ প্রকাশ করেন
  • ১৯৩৭ সালে উন্নত বিস্তারিত সংস্করণ আসে, যেখানে ১৪টি উপপরীক্ষা (subtests) ছিল
  • মস্তিষ্কের বিভিন্ন কগনিটিভ দক্ষতাভাষাগত, গাণিতিক, বিমূর্ত যুক্তি, আয়ত্ত স্মৃতিপরীক্ষা করা হয়
  • Mental Age ধারণার ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষার স্কোর নির্ধারণ; আইকিউ নির্ণায়ক (IQ = Mental Age/Chronological Age x 100)

মূল্যায়নের ধরন:

  • নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের জন্য উপযুক্ত প্রশ্ন সরবরাহ; প্রশ্নের স্তর বাড়তে থাকে
  • Verbal (শব্দ, বাক্য, ধারণা) Non-verbal (চিত্র, pattern, যুক্তি) ক্ষেত্রে দক্ষতা বিচার করা হয়

প্রয়োগ গুরুত্ব:

  • সাধারণ বিশেষ শিক্ষার জন্য ছাত্রদের যোগ্যতা নির্ধারণ, অতিপ্রজ্ঞানসম্পন্ন (gifted) কমজ্ঞানসম্পন্ন (mentally retarded) শিশু শনাক্তকরণ
  • আধুনিক মানসিক মূল্যায়ন উন্নয়নে Stanford-Binet স্কেল পথপ্রদর্শক

5. শিক্ষকের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত

শিক্ষকের মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের গুণগত মান বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

  • শিক্ষকের মানসিক স্বাস্থ্য বলতে শিক্ষকের মানসিক, আবেগগত সামাজিক সুস্থতা বোঝায়, যা তার আচরণ, মনোভাব, সহনশীলতা কর্মদক্ষতাকে প্রভাবিত করে
  • মানসিকভাবে সুস্থ শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শান্ত, ধৈর্যশীল, উৎসাহী এবং প্রেরণাদায়ক এর ফলে তারা শিক্ষার্থীর সমস্যা বুঝতে সমাধানে দক্ষ হন
  • মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা হলে শিক্ষক কর্মক্ষমতা কমে যায়, যা শিক্ষার্থীর শেখার পরিমাণ মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে

মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার উপায়:

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম উত্তরোত্তর প্রশিক্ষণ গ্রহণ
  • পেশাগত সহযোগিতা, মতবিনিময় কাউন্সেলিং সুবিধা পাওয়া
  • কর্মক্ষেত্রে চাপ কমিয়ে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি
  • পরিবার বন্ধুদের কাছ থেকে আবেগগত সহযোগিতা

উপযুক্ত উদাহরণ:

একজন মানসিকভাবে সুস্থ শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ধৈর্য ধারণ করে নানা সমস্যা সমাধান করেন, যা শিক্ষার্থীর মনোবল বৃদ্ধি করে এবং শিক্ষার প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়


6. গাইডেন্স কী? গাইডেন্স পরামর্শের পার্থক্য এবং বিদ্যালয়ে গাইডেন্সের প্রয়োজনীয়তা

গাইডেন্স বলতে শিক্ষার্থীকে তার ব্যক্তিগত, শিক্ষা সমাজশিক্ষাগত বিষয়ে সঠিক পথে পরিচালিত করার একটি বিস্তৃত প্রক্রিয়া বোঝানো হয় এটি শিক্ষার্থীর আত্মউন্নয়ন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে

গাইডেন্স পরামর্শের পার্থক্য

দিক

গাইডেন্স

পরামর্শ

প্রক্রিয়ার ধরন

ব্যাপক বহুমুখী নির্দেশনা

ব্যক্তিগত নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান

পারস্পরিক সম্পর্ক

শিক্ষার্থী গাইড প্রদানকারীর মাঝে

পরামর্শদাতা ক্লায়েন্টের মধ্যে

লক্ষ্য

সার্বিক উন্নয়ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজতর করা

মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা সমস্যা সমাধান

প্রয়োগ ক্ষেত্র

শিক্ষাবিদ্যা, ক্যারিয়ার, সমাজকল্যাণ

মানসিক আবেগগত সমস্যা সমাধানে বেশি

বিদ্যালয় শিক্ষায় গাইডেন্সের প্রয়োজনীয়তা

  • শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব সম্ভাবনা সঠিকভাবে মূল্যায়ন বিকাশে সহায়তা করা
  • ক্যারিয়ার পছন্দে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা
  • সমস্যা দ্বিধামুক্ত হয়ে পড়ালেখায় মনোযোগী হতে পারা
  • সামাজিক মানসিক সমস্যার প্রাথমিক সমাধান
  • বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখা

উদাহরণ:

একজন ছাত্র যিনি কোনো বিষয়ের জন্য ক্যারিয়ার নির্ধারণ করতে পারেন না, গাইডেন্স কাউন্সেলর তার শখ, শক্তি সুযোগ ইত্যাদি বিবেচনা করে সঠিক পেশার পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেন


7. বুদ্ধিমত্তা স্কেল কি? একটি বুদ্ধিমত্তা স্কেল বর্ণনা এবং IQ নির্ধারণের পদ্ধতি

বুদ্ধিমত্তা স্কেল হলো একটি মানসিক পরীক্ষার পদ্ধতি যা মানুষের কগনিটিভ ক্ষমতা বুদ্ধিমত্তার মাত্রা পরিমাপ করে

উদাহরণ: Stanford-Binet Intelligence Scale

  • এটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন Cognitive ক্ষমতা পরিমাপ করে যেমন ভাষাগত, যুক্তি, স্মৃতি, বিশ্লেষণমূলক দক্ষতা
  • বয়স অনুযায়ী প্রশ্নের স্তর নির্ধারিত থাকে এবং পরীক্ষাগ্রহীতার সামগ্রিক বুদ্ধিমত্তা নির্ণয় করে
  • Mental Age (মানসিক বয়স) সম্পর্কে ধারণা দেয়, যা পরীক্ষাগ্রহীতার সত্যিকারের বয়সের থেকে কতটা উন্নত বা পিছিয়ে সে বিষয়ে নির্দেশ দেয়

IQ নির্ধারণের পদ্ধতি

IQ (Intelligence Quotient) নির্ধারণ করা হয় নিম্নলিখিত সূত্রে:

IQ=(Mental AgeChronological Age)×100IQ=(ChronologicalAgeMentalAge)×100

  • যেখানে,
    • Mental Age = বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় অর্জিত মানসিক দক্ষতার বয়সের পর্যায়
    • Chronological Age = পরীক্ষাগ্রহীতার প্রকৃত বসবাসের বছর

উদাহরণ:

যদি একজন ১০ বছর বয়সী শিশুর Mental Age ১২ বছর হয়, তাহালে তার IQ হবে

IQ=1210×100=120IQ=1012×100=120

যা মানে শিশুটি তার বয়সের তুলনায় গড় থেকে বেশি বুদ্ধিমান

 

 

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)
google.com, pub-9854479782031006, DIRECT, f08c47fec0942fa0