WB D.EL.ED.
PART -01
ENGLISH VERSION
CPS 04 ENVIRONMENTAL STUDIES
IMPORTANT QUESTIONS
Mcq
১. পরিবেশ সংরক্ষণের দুটি উপায় কী?
ক) ধূমপান কমানো ও নদী পরিষ্কার
খ) গাছ লাগানো ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় ✅
গ) কাগজ ব্যবহার কমানো ও যান্ত্রিকতা বাড়ানো
ঘ) পেট্রোল ব্যবহার
২. শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ কোন মাধ্যমে হয়?
ক) সংবাদপত্র পড়া
খ) খেলাধুলা ও শরীরচর্চা ✅
গ) বিদেশ ভ্রমণ
ঘ) কেবল মাত্র পাঠ্যবই পড়া
৩. শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, কোন বয়সের শিশুদের শিক্ষা বাধ্যতামূলক?
ক) ৪-১২ বছর
খ) ৬-১৪ বছর ✅
গ) ৮-১৬ বছর
ঘ) ১০-১৮ বছর
৪. পরিবেশের মূল ভাগ কয়টি?
ক) ১টি
খ) ২টি ✅
গ) ৩টি
ঘ) ৪টি
৫. পরিবেশের ওপর মানুষের প্রভাব কোনটি?
ক) বই প্রকাশ
খ) বন ধ্বংস ✅
গ) ছবি আঁকা
ঘ) গান গাওয়া
৬. শিক্ষার স্থানান্তরের একটি তত্ত্ব কোনটি?
ক) কৃষিতত্ত্ব
খ) অভিন্ন উপাদান তত্ত্ব ✅
গ) জ্যোতির্বিদ্যা
ঘ) বায়ুবিদ্যা
৭. পরিবেশ শিক্ষা স্কুলে প্রয়োজন কেন?
ক) পরীক্ষার নম্বর বাড়ায়
খ) শিশুদের দায়িত্ববান নাগরিক করে ✅
গ) কেবল খেলার সুযোগ দেয়
ঘ) কেবল প্রযুক্তি শেখায়
৮. মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্র বলতে বোঝায়—
ক) সঙ্গীতচর্চা
খ) শারীরিক দক্ষতা ও খেলা ✅
গ) কবিতা আবৃত্তি
ঘ) চিত্রকলা
৯. পরিবেশ শিক্ষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো—
ক) প্রযুক্তি শেখানো
খ) প্রকৃতি ও পরিবেশ বোঝানো ✅
গ) বানান শেখানো
ঘ) শব্দভান্ডার তৈরি
১০. ‘অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র’ বলতে বোঝায়—
ক) জীবনধারা দেখা
খ) ব্যবহারিক জীবনে অর্জিত দক্ষতা ✅
গ) খেলা-ধুলার মাঠ
ঘ) পরীক্ষার খাতা
১১. পরিবেশ শিক্ষায় আগ্রহ তৈরির উপায় কোনটি?
ক) ফোন ব্যবহার
খ) কুইজ প্রতিযোগিতা ✅
গ) বই লুকানো
ঘ) গান গাওয়া
১২. পরিবেশ গঠিত হয়—
ক) কেবল গাছ নিয়ে
খ) জীবিত ও অজীব উপাদান দিয়ে ✅
গ) শুধু পশু দিয়ে
ঘ) শুধু নদী দিয়ে
১৩. পরিবেশ শিক্ষায় কী শেখানো হয়?
ক) ধর্মীয় পাঠ
খ) পরিবেশগত সমস্যা ও সমাধান ✅
গ) ঐতিহাসিক কাহিনি
ঘ) অর্থনীতি
১৪. মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্ক কিভাবে বোঝা যায়?
ক) বই থেকে
খ) পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো ✅
গ) কেবল প্রযুক্তি দিয়ে
ঘ) বিদেশ ভ্রমণ করে
১৫. পরিবেশ বিজ্ঞানের একটি ব্যবহারিক লক্ষ্য হলো—
ক) গান শেখা
খ) প্রকৃতির যত্ন নেওয়া ✅
গ) টাকা জমানো
ঘ) খেলা জয় করা
১৬. পরিবেশ বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য হলো—
ক) অর্থ উপার্জন
খ) সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন ✅
গ) প্রযুক্তি ব্যবহার
ঘ) বিদেশ ভ্রমণ
১৭. NCF-2005 অনুযায়ী কত স্তরে পরিবেশ শিক্ষা ভাগ করা আছে?
ক) ৩টি
খ) ৫টি ✅
গ) ৬টি
ঘ) ৪টি
১৮. পরিবেশ শিক্ষার একটি গুরুত্ব হলো—
ক) গান শেখানো
খ) সচেতন নাগরিক তৈরি ✅
গ) ছবি আঁকা
ঘ) খেলাধুলা
১৯. পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা কী?
ক) সাহিত্য শিক্ষা
খ) পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান ✅
গ) প্রযুক্তি শিক্ষা
ঘ) অর্থনীতি শিক্ষা
২০. পরিবেশবান্ধব শিক্ষা বলতে বোঝায়—
ক) প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা
খ) পরিবেশ রক্ষাকারী শিক্ষা ✅
গ) বিদেশি শিক্ষা
ঘ) ধর্মীয় শিক্ষা
২১. ভ্রমণে পরিবেশ শেখানো হয় কীভাবে?
ক) নাটক দেখে
খ) প্রকৃতিকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে ✅
গ) গান গেয়ে
ঘ) বই কিনে
২২. পাঠক্রম মূল্যায়ন কেন হয়?
ক) পড়া মুখস্থ করাতে
খ) শিক্ষার সাফল্য যাচাই করতে ✅
গ) খেলাধুলায় জিততে
ঘ) বই বিক্রি করতে
২৩. পাঠক্রম নকশায় সমন্বয়ের অর্থ—
ক) বিষয় বাদ দেওয়া
খ) একাধিক বিষয় মিলিয়ে শেখানো ✅
গ) একই বই পড়া
ঘ) সব উপেক্ষা
২৪. পাঠক্রম পরিকল্পনার একটি ধাপ—
ক) কুইজ প্রতিযোগিতা
খ) লক্ষ্য নির্ধারণ ✅
গ) খেলাধুলা
ঘ) গান গাওয়া
২৫. NCF-2005-এ প্রাথমিক স্তরে পরিবেশ শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো—
ক) কৌতূহল বাড়ানো ✅
খ) গান শেখানো
গ) প্রযুক্তি শিক্ষা
ঘ) বিদেশ ভ্রমণ
২৬. নির্মাণবাদী শিক্ষণ তত্ত্বে—
ক) শিক্ষক সব বলেন
খ) শিক্ষার্থী নিজের অভিজ্ঞতায় জ্ঞান গড়ে ✅
গ) শুধু বই পড়ে
ঘ) কেবল শোনা শেখে
২৭. প্রেক্ষাপট ভিত্তিক শিক্ষা কীভাবে হয়?
ক) অপরিচিত উদাহরণ
খ) পরিচিত উদাহরণ ব্যবহার করে ✅
গ) বিদেশি ভাষা দিয়ে
ঘ) মুখস্থবিদ্যা
২৮. শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা কাদের ভিত্তিতে হয়?
ক) শিক্ষকের ভিত্তিতে
খ) শিশুর আগ্রহ ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ✅
গ) অভিভাবকের ভিত্তিতে
ঘ) সমাজের ভিত্তিতে
২৯. পরিবেশ শিক্ষার একটি শিক্ষণ পদ্ধতি হলো—
ক) গল্প বলা ✅
খ) গান শোনা
গ) সংবাদপত্র পড়া
ঘ) খেলা
৩০. প্রকল্প পদ্ধতির একটি ধাপ হলো—
ক) ভ্রমণ
খ) পরিকল্পনা ✅
গ) খাওয়াদাওয়া
ঘ) গান
৩১. শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষা কাদের উপর নির্ভরশীল?
ক) অভিভাবক
খ) শিক্ষার্থী ✅
গ) শিক্ষক
ঘ) গ্রন্থাগার
৩২. পরীক্ষণ পদ্ধতিতে কীভাবে শিক্ষা হয়?
ক) পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ✅
খ) নাটক দেখে
গ) গান শুনে
ঘ) গল্প বলায়
৩৩. আলোচনা পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হলো—
ক) নীরবতা
খ) মতবিনিময় ✅
গ) খেলা
ঘ) গান
৩৪. আবিষ্কার পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী—
ক) মুখস্থ করে
খ) অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ করে ✅
গ) শুধু শোনে
ঘ) ক্লাস ফাঁকি দেয়
৩৫. সংবাদপত্র পরিবেশ শিক্ষায় কেন সহায়ক?
ক) গান মুদ্রিত হয়
খ) পরিবেশ সম্পর্কিত তথ্য দেয় ✅
গ) খেলা-খবর দেয়
ঘ) কবিতা ছাপে
৩৬. পরিবেশ শিক্ষায় একটি সহায়ক উপকরণ—
ক) গান
খ) মানচিত্র ✅
গ) খাবার
ঘ) বই
৩৭. বিদ্যালয়ে শ্রবণ-দৃশ্য কক্ষে কী থাকা দরকার?
ক) আসবাব, চার্ট, প্রোজেক্টর ✅
খ) গান
গ) ছবি আঁকা
ঘ) ধূপকাঠি
৩৮. পরীক্ষাগার শিক্ষায় কীভাবে সাহায্য করে?
ক) খেলাধুলা করতে
খ) সংগৃহীত বস্তু বিশ্লেষণে ✅
গ) গান গাওয়ায়
ঘ) বাইরে ভ্রমণে
৩৯. দূরশিক্ষায় কোন সহায়ক উপকরণ ব্যবহৃত হয়?
ক) রেডিও ✅
খ) দাঁত ব্রাশ
গ) কাগজ
ঘ) খাবার
৪০. বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে থাকা উচিত—
ক) রেফারেন্স বই ✅
খ) খেলনা
গ) পোশাক
ঘ) গান সিডি
৪১. বিদ্যালয়ের চারপাশ থেকে কী শেখা যায়?
ক) গাছ, প্রাণী, কৃষি ✅
খ) গান
গ) খেলা
ঘ) প্রযুক্তি
৪২. শ্রেণিকক্ষে পরিবেশ পড়াতে শিক্ষককে সাহায্য করে—
ক) আসল উপাদান ✅
খ) গান
গ) নাচ
ঘ) খেলা
৪৩. ব্যক্তিগত পরিবেশ ধ্বংসের একটি কারণ হলো—
ক) বন সংরক্ষণ
খ) সম্পদ অপব্যবহার ✅
গ) সুশিক্ষা
ঘ) আইন মানা
৪৪. অক্ষাংশ রেখার বৈশিষ্ট্য হলো—
ক) পূর্ণবৃত্ত ✅
খ) অর্ধবৃত্ত
গ) ত্রিভুজ
ঘ) বিন্দু
৪৫. দাবানল কীভাবে হয়?
ক) নদী শুকিয়ে
খ) বজ্রপাত বা ঘর্ষণে ✅
গ) ঝড়ো হাওয়ায়
ঘ) বৃষ্টি হলে
৪৬. বায়ুদূষণ হয় কোন কারণে?
ক) গান গেয়ে
খ) ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস মেশায় ✅
গ) আঁকা-আঁকি
ঘ) হাঁটা
৪৭. জলদূষণ কী?
ক) পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মিশে যাওয়া ✅
খ) শুধুই রঙ পরিবর্তন
গ) মাছ খাওয়া
ঘ) বই পড়া
৪৮. ব্যক্তিগত দূষণের উৎস হলো—
ক) ধূমপান ✅
খ) মাছ ধরা
গ) গল্প শোনা
ঘ) গান গাওয়া
৪৯. জলদূষণের একটি কারণ হলো—
ক) শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলা ✅
খ) কবিতা লেখা
গ) গান গাওয়া
ঘ) খেলা
৫০. শীতকালে বায়ুদূষণের ফল কী?
ক) শ্বাসকষ্ট ✅
খ) পেট ব্যথা
গ) দাঁতের ক্ষয়
ঘ) কান ব্যথা
২ মার্কস গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১. পরিবেশ সংরক্ষণ কীভাবে করা যায়?
• গাছ লাগানো।
• বিদ্যুতের সাশ্রয় করা।
২. রেজ্ঞাবান্ধব ভাষায় খেলা বলতে কী বোঝায়?
• শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ।
৩. শিক্ষার অধিকার আইন, 2009-এর মূল বৈশিষ্ট্য কী?
• ৬-১৪ বছর বয়সী সব শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা।
৪. পরিবেশের মূল ভাগ কয়টি?
• দুটি→ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশ।
৫. মানুষের কার্যকলাপের ফলে পরিবেশের কী প্রভাব হয়?
• অতিরিক্ত চাষাবাদ, বন ধ্বংস, শিকার, বাঁধ তৈরি ইত্যাদির ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
৬. শিক্ষার স্থানান্তরের ধরণ কী কী?
• অভিন্ন উপাদান তত্ত্ব
• সাধারণীকরণ তত্ত্ব
• গেস্টাল্ট তত্ত্ব
• লার্নিং টু লার্ন তত্ত্ব
• হাই রোড-লো রোড তত্ত্ব
৭. পরিবেশ শিক্ষা স্কুলে কেন জরুরি?
• শিশুদের পরিবেশ সচেতন ও দায়িত্ববান নাগরিক করে তোলে।
৮. মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্র বলতে কী বোঝায়?
• খেলা, ক্রীড়া, শরীরচর্চা ও শারীরিক দক্ষতা শেখাকে বোঝায়।
৯. পরিবেশ শিক্ষার বৈশিষ্ট্য লিখো।
• প্রকৃতি ও পরিবেশ বোঝায় সাহায্য করে।
• উন্নয়নের সাথে পরিবেশের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে।
১০. ‘অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র’ বলতে কী বোঝায়?
• শিক্ষার্থীর ব্যবহারিক জীবনে অর্জিত দক্ষতা ও চর্চার ক্ষেত্র।
১১. পরিবেশ শিক্ষায় আগ্রহ তৈরির উপায় লিখো।
• পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা, কুইজ ও বিভিন্ন কর্মসূচি করা।
১২. পরিবেশ বলতে কী বোঝায়?
• জীবিত উপাদান (মানুষ, পশু, গাছ) এবং জড় উপাদান (মাটি, জল, বায়ু) মিলিয়ে পরিবেশ গঠিত।
১৩. পরিবেশ শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?
• পরিবেশ ও পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে জ্ঞান ও সমাধানের উপায় শেখানো।
১৪. মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্ক কীভাবে বোঝা যায়?
• মানুষ পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলে। যেমন পাহাড়ি এলাকায় পশুপালন ও সমতলে কৃষি।
১৫. পরিবেশ বিজ্ঞানের ব্যবহারিক লক্ষ্য কী?
• শিক্ষার্থীরা পরিবেশ বোঝে, প্রকৃতির যত্ন নিতে শেখে, সমস্যার সমাধান খুঁজে নেয়।
১৬. পরিবেশ বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য কী?
• পরিবেশ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা দেওয়া ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি।
১৭. NCF-2005 অনুসারে পরিবেশের স্তরগুলো কী কী?
১. প্রারম্ভিক স্তর (I-II)
২. প্রাথমিক স্তর (III-V)
৩. উচ্চ প্রাথমিক (VI-VIII)
৪. মাধ্যমিক (IX-X)
৫. উচ্চ মাধ্যমিক (XI-XII)
১৮. পরিবেশ শিক্ষার গুরুত্ব কী?
• শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলে, পরিবেশের সমস্যা সমাধানে অভ্যস্ত করে।
১৯. পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?
• পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান ও ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া।
২০. পরিবেশবান্ধব শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?
• এমন শিক্ষা যা পরিবেশকে রক্ষা করে এবং দূষণ এড়ায়।
২১. ভ্রমণের মাধ্যমে কীভাবে পরিবেশ শেখানো যায়?
• প্রাকৃতিক জিনিস (গাছ, নদী, প্রাণী) সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।
২২. পাঠক্রম মূল্যায়ন বলতে কী বোঝায়?
• পাঠ্যক্রম কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হল তা যাচাই করা।
২৩. পাঠক্রম নকশায় সমন্বয়ের অর্থ কী?
• একাধিক বিষয়ের জ্ঞানকে মিলিয়ে পড়ানো।
২৪. পাঠক্রম পরিকল্পনার ধাপগুলি কী?
• লক্ষ্য নির্ধারণ করা
• বিষয় নির্বাচন ও সাজানো
• শিক্ষণ কৌশল নির্ধারণ
• মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা
২৫. NCF-2005 এ প্রাথমিক স্তরে পরিবেশ শিক্ষার লক্ষ্য কী?
• শিশুদের কৌতূহল বাড়ানো
• প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক বোঝানো
২৬. নির্মাণবাদী শিক্ষণ তত্ত্ব কী?
• শিক্ষার্থী নিজের অভিজ্ঞতা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে জ্ঞান গড়ে তোলে।
২৭. প্রেক্ষাপট ভিত্তিক শিক্ষণ কী?
• শিক্ষার্থীর পরিচিত উদাহরণ ব্যবহার করে শিক্ষা দেওয়া।
২৮. শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা কী?
• শিক্ষণ হয় শিশুর আগ্রহ, ক্ষমতা ও প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে।
২৯. পরিবেশ শিক্ষায় শিক্ষণ পদ্ধতিগুলি কী কী?
১. গল্প বলা
২. পর্যবেক্ষণ
৩. আলোচনা
৪. নাটকীয়করণ
৫. আবিষ্কার পদ্ধতি
৬. ক্ষেত্রসমীক্ষা
৩০. প্রকল্প পদ্ধতির ধাপ লিখো।
১. লক্ষ্য নির্ধারণ
২. পরিকল্পনা
৩. কাজ সম্পাদন
৪. মূল্যায়ন
৩১. শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?
👉 শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষা হলো এমন পদ্ধতি যেখানে শিক্ষার্থীর আগ্রহ, প্রয়োজন, দক্ষতা ও সামর্থ্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষা দেওয়া হয়। শিক্ষক কেবল পথপ্রদর্শক, শিক্ষার্থী নিজে অংশগ্রহণ করে শেখে।
৩২. পরীক্ষণ পদ্ধতি বলতে কী বোঝায়?
👉 পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বাস্তব তথ্য জেনে শিখতে পারাকে পরীক্ষণ পদ্ধতি বলে। এতে শিক্ষার্থী আবিষ্কারক রূপে কাজ করে।
৩৩. আলোচনা পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য কী?
👉 শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে মতবিনিময় হয়। দলগত আলাপ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ এই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য।
৩৪. আবিষ্কার পদ্ধতির মূল বক্তব্য কী?
👉 শিক্ষার্থী নিজে পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও পরীক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান আবিষ্কার করে। এতে যুক্তিবোধ, কৌতূহল ও স্বনির্ভর শেখা তৈরি হয়।
৩৫. সংবাদপত্র পরিবেশ শিক্ষায় কেন ব্যবহার হয়?
👉 সংবাদপত্র থেকে দুর্যোগ, সামাজিক সমস্যা, পরিবেশ দূষণ, উৎসব ও স্থানীয় তথ্য জানা যায়। তাই এটি ব্যবহারিক শিক্ষার উৎস।
৩৬. পরিবেশ শিক্ষায় সহায়ক উপকরণ কী কী?
👉 চলচ্চিত্র, ছবি, চার্ট, মানচিত্র, ডায়াগ্রাম, মডেল প্রভৃতি। এগুলো শিক্ষার্থীদের বিষয় সহজে বুঝতে সাহায্য করে।
৩৭. বিদ্যালয়ের শ্রবণ-দৃশ্য কক্ষ কেমন হওয়া উচিত?
👉 প্রশস্ত কক্ষ, সঠিক আলো-প্রবাহ, প্রোজেক্টর, চার্ট, মানচিত্র, আসবাবপত্র থাকতে হবে।
৩৮. পরীক্ষাগার পরিবেশ শিক্ষায় কীভাবে সাহায্য করে?
👉 শিক্ষার্থীরা সংগ্রহ করা বস্তু (পাতা, পাথর ইত্যাদি) পরীক্ষাগারে পর্যবেক্ষণ ও প্রদর্শন করে, যা জ্ঞানকে দৃঢ় করে।
৩৯. দূরশিক্ষায় কী কী সহায়ক উপকরণ ব্যবহৃত হয়?
👉 রেডিও, টেলিভিশন, শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি প্রভৃতি।
৪০. বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে কোন উপকরণ দরকার?
👉 পাঠ্যপুস্তক, সহায়ক বই, বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ক রেফারেন্স বই।
৪১. বিদ্যালয়ের চারপাশ থেকে শিক্ষার্থীরা কী শেখে?
👉 উদ্ভিদ, প্রাণী, কৃষি, জলাশয়, প্রাকৃতিক সম্পদ পর্যবেক্ষণ করে ব্যবহারিক জ্ঞান লাভ করে।
৪২. শ্রেণিকক্ষে পরিবেশ বিষয় পড়ানোর সময় কী ব্যবহার করতে হয়?
👉 বইয়ের পাশাপাশি আসল উপাদান দেখানো। যেমন—গাছের পাতা, ফল, খনিজ ইত্যাদি।
৪৩. ব্যক্তিগত কারণে পরিবেশ ধ্বংস বলতে কী বোঝায়?
👉 ব্যক্তি অযথা ভোগ, সম্পদ অপব্যবহার, স্বার্থপর প্রয়োজনে প্রকৃতি নষ্ট করলে তাকে ব্যক্তিগত পরিবেশ ধ্বংস বলে।
৪৪. অক্ষাংশ রেখার বৈশিষ্ট্য লিখো।
👉 এরা পূর্ণবৃত্ত, পরস্পর সমান্তরাল, নিরক্ষরেখা সর্ববৃহৎ (০°), সর্বোচ্চ ৯০° উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।
৪৫. দাবানল কী?
👉 বজ্রপাত, খরা বা কাঠ-পাতা ঘর্ষণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বনে আগুন লাগাকে দাবানল বলে।
৪৬. বায়ুদূষণ কী?
👉 বাতাসে ক্ষতিকর গ্যাস, ধোঁয়া বা ধূলিকণা মিশে মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি ঘটালে তাকে বায়ুদূষণ বলে।
৪৭. জলদূষণ কী?
👉 ক্ষতিকর পদার্থ বা বিষাক্ত রাসায়নিক পানিতে মিশে সেটিকে অযোগ্য করে দিলে তাকে জলদূষণ বলে।
৪৮. ব্যক্তিগত দূষণের উৎস কী কী?
👉 অতিরিক্ত ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।
৪৯. জলদূষণের কারণ লিখো।
👉 (i) শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলা।
👉 (ii) কীটনাশক ও রাসায়নিক সার পানিতে মেশা।
৫০. শীতে বায়ুদূষণের প্রভাব কী?
👉 শীতে কুয়াশা-ধোঁয়া মিশে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। এটি শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট ও রোগ বাড়ায়।
৫১. জলদূষণের প্রভাব কী?
👉 পানির স্বাদ, রঙ নষ্ট হয়। জীবাণুবাহিত রোগ (ডায়রিয়া, ত্বকের সমস্যা) বাড়ে। নদী-খাল অকেজো হয়।
৫২. বায়ুদূষণের কারণ কী?
👉 (i) আগ্নেয়গিরির লাভা ও গ্যাস নির্গত হওয়া।
👉 (ii) ধূলিঝড়।
৫৩. বাংলায় কালবৈশাখী কোন মাসে হয়?
👉 বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে।
৫৪. বাংলার শীতকাল কোন মাসে?
👉 পৌষ ও মাঘ মাসে।
৫৫. রক্তাল্পতা কী?
👉 শরীরে লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রক্তাল্পতা হয়। ফলে দুর্বলতা আসে।
৫৬. সাঁতারের উপকারিতা কী?
👉 সাঁতারে শরীরের প্রায় সব অঙ্গ ব্যায়াম হয়। তাই এটি উত্তম শরীরচর্চা।
৫৭. মানুষ প্রথম আগুন জ্বালায় কীভাবে?
👉 প্রাচীন মানুষ পাথর বা কাঠ ঘষে আগুন জ্বালাতো।
৫৮. খাদ্যের প্রধান ভাগ কয়টি?
👉 ৬টি – প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, খনিজ, তেল ও ভিটামিন।
৫৯. জোয়ার-ভাটা কেন হয়?
👉 চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে সমুদ্রে জল ওঠানামা করে।
৬০. সুষম খাদ্য কী?
👉 যেখানেই ছয়টি পুষ্টি উপাদান (প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, খনিজ, ভিটামিন, তেল) সঠিক পরিমাপে থাকে সেটাই সুষম খাদ্য।
৬১. শব্দ প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনি কী?
👉 শব্দ কোনো প্রতিবন্ধক তলে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসলে তাকে প্রতিধ্বনি বলে। প্রতিধ্বনির দুটি প্রকার—(i) নিয়মিত প্রতিফলন (ii) অনিয়মিত প্রতিফলন।
৬২. মালভূমি কী?
👉 সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০–৬০০ মিটার উঁচু সমতল ভূমি, চারিদিকে ঢাল বিশিষ্ট হলে তাকে মালভূমি বলে।
৬৩. সুষম খাদ্যের প্রকারভেদ কী?
👉 (i) পুষ্টিসাধন: দেহ বৃদ্ধিতে পুষ্টি দেয়। (ii) ক্ষয়পূরণ: দেহের ক্ষয় সারায়। (iii) জীবনীশক্তি দান: শক্তি যোগায়, কাজের ক্ষমতা বাড়ায়।
৬৪. VI-VIII শ্রেণির পরিবেশ বিজ্ঞানে কী বিষয় আছে?
👉 (i) পদার্থ ও ঐতিহ্য, (ii) আমাদের পৃথিবী, (iii) পরিবেশ ও বিজ্ঞান।
৬৫. কার্বন চক্র কী?
👉 পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইড সঞ্চালন ও জীব-অজীব উপাদানের মধ্যে অবিরাম ঘূর্ণনের প্রক্রিয়াকে কার্বন চক্র বলে (গ্যাসীয় ও অবজ পদ্ধতি অনুযায়ী)।
৬৬. নাইট্রোজেন চক্র কী?
👉 বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন গাছ, প্রাণী, মাটি হয়ে আবার বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে নাইট্রোজেন চক্র বলে। এতে ৬ ধাপ রয়েছে— স্থিরীকরণ, অ্যামোনিফিকেশন, নাইট্রিফিকেশন, ডি-নাইট্রিফিকেশন ইত্যাদি।
৬৭. গ্রিনহাউস গ্যাস কী?
👉 CO₂, CH₄, H₂O, O₃—এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখে। এগুলোকে গ্রিনহাউস গ্যাস বলে।
৬৮. অম্লবৃষ্টি কী?
👉 শিল্প থেকে নির্গত SO₂, NO₂ প্রভৃতি বায়ুতে পানির সঙ্গে মিশে সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করলে যে বৃষ্টি হয় তাকে অম্লবৃষ্টি বলে।
৬৯. মাইক্রো টিচিং বা ক্ষুদ্রশিক্ষণ কী?
👉 শিক্ষকের স্বাভাবিক শেখানোর কৌশলকে ছোট সময়ে, সীমিত শিক্ষার্থীকে শেখানোর অনুশীলন পদ্ধতি হলো ক্ষুদ্রশিক্ষণ। এটি গবেষণামূলক ও দক্ষতা বাড়ানোর উপায়।
৭০. পাঠ পরিকল্পনা কী?
👉 শ্রেণি নেওয়ার আগে শিক্ষক যে লিখিত পরিকল্পনা তৈরি করেন তাকে পাঠ পরিকল্পনা বলে।
৭১. ক্ষুদ্রশিক্ষণের উপাদান কী?
👉 ডব্লিউ. অ্যালেন ১৪টি উপাদান জানান। যেমন—প্রশ্ন করা, বোর্ড ব্যবহার, ভূমিকা, উদাহরণ, কণ্ঠস্বর ইত্যাদি।
৭২. পাঠদানের স্তর উল্লেখ করো।
👉 (i) প্রস্তুতি স্তর
👉 (ii) উপস্থাপন স্তর
৭৩. ক্ষুদ্রশিক্ষণ কী?
👉 স্বল্প সময়ে, সীমিত শিক্ষার্থী ও নির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে শিক্ষা প্রক্রিয়াকে ক্ষুদ্রশিক্ষণ বলে (D.W. Allen)।
৭৪. কর্মগবেষণা কী?
👉 শ্রেণিকক্ষের বা স্কুলের তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান খোঁজার জন্য করা গবেষণাকে কর্মগবেষণা বলে।
৭৫. শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মগবেষণার প্রয়োগ কীভাবে হয়?
👉 শিক্ষক নিজেই শিক্ষার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা করে সমাধান করেন। এতে তার দক্ষতা বাড়ে, শ্রেণিশিক্ষণ সহজ হয়।
৭৬. কর্মগবেষণার বৈশিষ্ট্য কী?
👉 (i) তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান।
👉 (ii) নির্দিষ্ট স্থানে সীমিতভাবে হয়।
👉 (iii) পরিকল্পনা, তথ্যসংগ্রহ, বিশ্লেষণ, ফলপ্রকাশ।
৭৭. কর্মগবেষণার ধাপ কী কী?
👉 (i) সমস্যা নির্ধারণ, (ii) সম্ভাবনার বিশ্লেষণ, (iii) লক্ষ্য স্থির, (iv) অনুমান ধরা, (v) তথ্যসংগ্রহ, (vi) বিশ্লেষণ, (vii) মূল্যায়ন, (viii) ফল।
৭৮. মূল্যায়ন কী?
👉 শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও মনোভাব কতটা পরিবর্তিত হয়েছে তা মাপার প্রক্রিয়াই মূল্যায়ন।
৭৯. সাফল্য পরীক্ষণ (Achievement Test) কী?
👉 শিক্ষার্থীর শেখা বা অর্জিত দক্ষতা পরিমাপ করার পরীক্ষাকে সাফল্য পরীক্ষণ বলে। এটি জ্ঞান, বোঝাপড়া ও দক্ষতার মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়।
৮০. মূল্যায়নের উপায় কী কী?
👉 (i) সাফল্য পরীক্ষণ (Achievement Test)
👉 (ii) মাপযন্ত্র (যেমন–স্কেল বা রুব্রিক্স)।
৮১. শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়নের গুরুত্ব কী?
👉 (i) শেখা-শেখানোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
👉 (ii) শিক্ষার ফলাফল যাচাইয়ের উপায়।
👉 (iii) শিক্ষার্থীর উন্নতি বোঝার মাধ্যম।
৮৩. পরীক্ষা কী?
👉 পরীক্ষা হলো শিক্ষার্থীর শেখার মাত্রা নির্ধারণের অন্যতম উপায়। নির্দিষ্ট সময়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা যাচাই করা হয়।
৮৪. পরীক্ষার ব্লু-প্রিন্ট কী?
👉 পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্রের কাঠামো তৈরি করা। অর্থাৎ কোন অংশ থেকে কত নম্বর প্রশ্ন থাকবে তার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা।
প্রশ্ন (১): পরিবেশ শিক্ষা কাজ কী? এর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর:
পরিবেশ শিক্ষা হলো এমন শিক্ষা ব্যবস্থা যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী পরিবেশ সম্পর্কিত জ্ঞান, মানসিকতা ও দক্ষতা অর্জন করে এবং সেগুলি বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হয়। এটি শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। এর কাজ, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো –
(ক) পরিবেশ শিক্ষার লক্ষ্য
১. জ্ঞানোমূলক লক্ষ্য:
• স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা তৈরি।
• জীবিত ও অজীব উপাদান সম্পর্কে জ্ঞানলাভ।
• দূষণের কারণ ও ফলাফল বোঝা।
• বাসস্থান, খাদ্য ও শক্তির উৎস সম্পর্কে জানা।
২. বোধমূলক লক্ষ্য:
• দূষণের কারণ চিহ্নিত করতে শেখা।
• বিভিন্ন পরিবেশ উপাদান বিশ্লেষণ করতে পারা।
• সঠিক-বেঠিক ব্যবহারের পার্থক্য করতে শেখা।
• পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানো।
৩. আচরণমূলক লক্ষ্য:
• পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা।
• বায়ু, জল, মাটি ও শব্দ দূষণ প্রতিরোধ শেখা।
• নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
(খ) পরিবেশ শিক্ষার উদ্দেশ্য
• সচেতনতা সৃষ্টি: মানুষকে পরিবেশ ও পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করা।
• জ্ঞান আহরণ: পরিবেশগত সমস্যার সমাধান বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি।
• ধারণা গঠন: পরিবেশ ব্যবস্থায় সঠিক ধারণা তৈরি।
• দক্ষতা গঠন: সমস্যার সমাধানে দক্ষতা তৈরি।
• অংশগ্রহণ: মানুষের সক্রিয় ভূমিকা রাখা।
• মূল্যায়ন: মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে কতটা সচেতন হল তা যাচাই।
(গ) পরিবেশ শিক্ষার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য
১. এটি বহুমাত্রিক— ভৌগোলিক, বৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জ্ঞানের সমন্বয়।
২. এটি সরাসরি জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
৩. মানবসভ্যতার উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ একসাথে শেখায়।
৪. এটি শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতাভিত্তিক শেখার উপর নির্ভরশীল।
৫. এতে মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।
পরিবেশ শিক্ষা হলো শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও সমাজের টেকসই ভারসাম্য রক্ষার জন্য সচেতন, দক্ষ ও দায়িত্ববান করে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া।
________________________________________
প্রশ্ন (২): সমস্যা সমাধান, প্রদীপাদন, আবিষ্কার ও প্রকল্প পদ্ধতি কী? সুবিধা-অসুবিধা ও স্তর আলোচনা করো।
উত্তর:
শিক্ষণ-শেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে সমস্যা সমাধান, প্রদীপাদন, আবিষ্কার ও প্রকল্প পদ্ধতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
(ক) সমস্যা সমাধান পদ্ধতি
• সংজ্ঞা: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে সমস্যা উপস্থাপন করেন এবং তারা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পায়।
• সুবিধা: শিক্ষার্থীর যুক্তিবোধ ও সৃজনশীলতা বাড়ে, সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা উন্নত হয়।
• অসুবিধা: সময় বেশি লাগে, দুর্বল শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে।
• স্তর: (i) সমস্যা সনাক্তকরণ (ii) তথ্য সংগ্রহ (iii) বিশ্লেষণ (iv) সিদ্ধান্ত (v) যাচাই।
(খ) প্রদীপাদন পদ্ধতি
• সংজ্ঞা: শিক্ষক নিজের অভিজ্ঞতা, উদাহরণ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিষয় শেখান।
• সুবিধা: সহজবোধ্য, সময়সাশ্রয়ী।
• অসুবিধা: শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ কম।
• স্তর: (i) প্রস্তুতি (ii) উপস্থাপন (iii) ব্যাখ্যা (iv) মূল্যায়ন।
(গ) আবিষ্কার পদ্ধতি (Heuristic Method)
• সংজ্ঞা: শিক্ষার্থী পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিজেরাই জ্ঞান আবিষ্কার করে।
• সুবিধা: স্থায়ী জ্ঞান অর্জন হয়, যুক্তিবোধ বাড়ে।
• অসুবিধা: দক্ষ শিক্ষক, পর্যাপ্ত সময় ও সরঞ্জাম না থাকলে কার্যকর হয় না।
• স্তর: (i) পর্যবেক্ষণ (ii) তথ্য সংগ্রহ (iii) পরীক্ষা-নিরীক্ষা (iv) সিদ্ধান্ত।
(ঘ) প্রকল্প পদ্ধতি
• সংজ্ঞা: সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট একটি শিক্ষাকর্ম সম্পন্ন করে।
• সুবিধা: দলগত কাজ, বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ, দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষা।
• অসুবিধা: সময়সাপেক্ষ, কম জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীর জন্য কঠিন।
• স্তর: (i) উদ্দেশ্য নির্ধারণ (ii) পরিকল্পনা প্রণয়ন (iii) কাজ সম্পাদন (iv) মূল্যায়ন।
সংক্ষেপে, এই চারটি পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে শিক্ষার্থীদের সক্রিয়, জ্ঞানগর্ভ ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা দেয়। সমস্যা সমাধান যুক্তিবোধ বাড়ায়, প্রদীপাদন সহজভাবে শেখায়, আবিষ্কার পদ্ধতি কৌতূহল জাগায়, আর প্রকল্প পদ্ধতি দলগতভাবে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেয়।
প্রশ্ন (৩): সর্বোত্তম গবেষণা কী? এর প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য, সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করো।
উত্তর:
সর্বোত্তম বা কার্যকর গবেষণা হলো বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে সমাধান খোঁজা এবং ফলাফল পাওয়া গবেষণা। এটিকে সরাসরি গবেষণাও বলা হয়।
(ক) প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য
• নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট সমস্যার সমাধান প্রচেষ্টা।
• পরিবেশ ও শিক্ষায় উন্নয়ন সাধন।
• পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত।
• সময়সাপেক্ষ হলেও দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল প্রদান করে।
• অংশগ্রহণমূলক ও প্রাসঙ্গিক।
(খ) সুবিধা
• সমস্যার ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব।
• শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হয় ও সমস্যা সমাধানে সক্রিয় হয়।
• বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য জ্ঞান সৃষ্টিতে সহায়ক।
• শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
(গ) অসুবিধা
• সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য।
• সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের অভাব সাফল্য ব্যাহত করে।
• সমগ্র পাঠদান প্রক্রিয়া কভার করা কঠিন।
• শিক্ষার্থীদের মধ্যে অংশগ্রহণের বৈষম্য দেখা দিতে পারে।
________________________________________
প্রশ্ন (৪): বায়ু দূষণ, জল দূষণ ও মাটি দূষণ কী? এর প্রধান কারণগুলো লিখো।
উত্তর:
(ক) বায়ুদূষণ
বায়ুদূষণ হলো বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকর গ্যাস, ধোঁয়া বা কণা মিশে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং পরিবেশ নষ্ট হওয়া।
প্রধান কারণ:
• প্রাকৃতিক: দাবানল, আগ্নেয়গিরি।
• মানবসৃষ্ট: যানবাহন, কলকারখানা থেকে ধোঁয়া, রাসায়নিক নির্গমন।
(খ) জলদূষণ
জলদূষণ হলো পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মিশে পানি অশুদ্ধ ও অযোগ্য হয়ে যাওয়া।
প্রধান কারণ:
• শিল্প বর্জ্য নদীতে ফেলা।
• রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে পানির দূষণ।
(গ) মাটি দূষণ
মাটি দূষণ হলো মাটিতে রাসায়নিক, প্লাস্টিক, কীটনাশক ও অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ জমে মাটি অবনতি হওয়া।
প্রধান কারণ:
• শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিক ব্যবহার বৃদ্ধি।
• সার ও কীটনাশক প্রয়োগ।
• আবর্জনা ও ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটিতে জমা।
পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষায় কর্মগবেষণা, সমস্যা সমাধান ও প্রকল্প পদ্ধতির মতো বিভিন্ন পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবেশ দূষণের নানা প্রকার এবং তার প্রধান কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিই টেকসই ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি। এসব শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।